• মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৪ ১৪২৯

  • || ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সামাজিক মাধ্যমে সহিংস কনটেন্ট বন্ধ করা সম্ভব?

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ দুই মসজিদে ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারান ৫০ জন। ঘাতক টারেন্ট শুধু নির্বিচারে গুলি করে গণহত্যাই চালানি, সে সেই দৃশ্য টানা ১৭ মিনিট ফেসবুকে লাইভও করে। পরের বছর ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশের ফেনী পৌরসভার বাহারীপুর পূর্ব বাড়ি এলাকায় ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে ওবায়দুল হক টুটুল। শুধু ফেসবুকেই নয়, অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লাইভে এসে এমন সহিংসতার ঘটনা বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলছে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার দুই সাংবাদিককে হত্যার ঘটনা ঘাতক তার টুইটার অ্যাকাউন্টে সরাসরি দেখিয়েছিল। এর কিছুদিন পরই এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা সরাসরি দেখানোর কারণে লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপ পেরিস্কোপ নিষিদ্ধ করা হয়। সর্বশেষ গত বুধবার ঢাকায় ফেসবুক লাইভে এসে পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন ব্যবসায়ী আবু মহসিন খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ঘটনার সরাসরি প্রচার সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, হয়তো ঘটনার পর এসব ভিডিও ও অন্য কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই এসব ঘটনা লাখ লাখ শেয়ার হচ্ছে বিশ্বজুড়ে, যা মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমগুলো তাৎক্ষণিক এসব সহিংস কনটেন্ট সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনাটি যখন লাইভ হচ্ছিল, তখন তা দেখে ২০০ জনেরও কম মানুষ। ভিডিওটি লাইভ হওয়ার পর সেটি মুছে ফেলা পর্যন্ত আনুমানিক চার হাজার মানুষ তা দেখে।

সাধারণত এ ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেয়। অধিকাংশ সময় কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা এসব দৃশ্য বা কনটেন্ট রোধ করতে ব্যর্থ হয়। এর মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। ক্রাইস্টচার্চে হামলার দৃশ্য সরাসরি দেখানোর সময় ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এটাকে সহিংস ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয় বলে স্বীকার করেছিলেন ফেসবুকের সে সময়ের গ্লোবাল পলিসিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিকা বিকার্ট। তিনি জানান, ঘটনার ১২ মিনিট পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ২৪ ঘণ্টায় ক্রাইস্টচার্চ হামলার ১৫ লাখ ভিডিও সরিয়ে ফেলে ফেসবুক। এ ঘটনার পর সহিংসতা ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়। এ ধরনের ঘটনা রোধ করতে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যর্থতাকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনার দাবি জানায় বিভিন্ন দেশ।

এ ব্যাপারে প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাব্বির বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সহিংসতার প্রচার পুরোপুরি রোধ করতে চাইলে লাইভ সম্প্রচার সুবিধাই বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সহিংসতার কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যাচাই করার পর সরিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, আত্মহত্যা বা রক্তাক্ত হামলার ঘটনার সরাসরি প্রচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কমিউনিটির নীতিমালার সঙ্গে না গেলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে এ জাতীয় কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব সময় এ ধরনের কনটেন্ট শতভাগ শনাক্ত করতে পারে না।

গত বুধবারের ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, 'ঘটনা জানার পরপরই আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং বিটিআরসির মাধ্যমে ফেসবুকের সিঙ্গাপুর অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।' তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন তাদেরও মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন।' এ ধরনের ঘটনার প্রচার রোধে করণীয় কী জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে নেই। এ ধরনের বিষয়ে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। পরে তারা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়।'

মন্ত্রী বলেন, 'এ ধরনের বিষয়গুলো সংঘটিত হয় ব্যক্তি উদ্যোগে। ফলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া দুরূহ। তবে ফেসবুক দ্রুত বন্ধ করতে চেষ্টা করে। দেশে পাঁচ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারী সব অ্যাকাউন্ট যাচাই করে দেখাও সময়সাপেক্ষ।'

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ