• শনিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৯

  • || ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভোট বর্জনে নতুন ছকে বিএনপি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২০১৪ সালে না এলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে বিএনপি।

দলটির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল, নেতাকর্মীদের অবাধে গ্রেফতার-নির্যাতন ও লেভেল প্লেইং ফিল্ড না থাকায় শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জনের পথকেই বেছে নিতে পারে দলটি।

তাদের মতে, এবার নির্বাচন বয়কট করলে দেশে আর নির্বাচনের পরিবেশ থাকবে না। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করা সরকারের পক্ষে আর সম্ভব হবে না। যদিও এখন সরকার বিরোধীদল নিধনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ সময়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে সরকার স্বাভাবিকভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে না। এমন রুদ্ধদ্বার চূড়ান্ত পর্যায়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে প্রার্থীদের মাঠে রেখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, আমান উল্লাহ আমান, আফরোজা আব্বাস, রেজা কিবরিয়াসহ ৮০ জনকে আগেই ভোট বাতিলের মিছিলে পাঠিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

বিরোধী দল যাতে নির্বাচনের মিছিলে টিকতে না পারে এবং তার জন্য যা করা দরকার, তাই করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শেষ সময়ে নির্যাতন- গ্রেফতার আরো বেড়ে যাবে। প্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হতে পারে। তবে যাই হোক, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবার শেষ লড়াই পর্যন্ত টিকে থাকবে এবং সরকারের সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।

সাম্প্রতিক ইস্যু ও আগামী কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মাঠে আছে, থাকবে। শত বাধা-সংকটের মধ্যেও জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলকে ভোটের শেষ সময় পর্যন্ত বার্তা দিয়ে যাবে এবং চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে।

বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জনের পথকেই বেছে নিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, বিএনপির চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত। আগামী ৯ থেকে ১০ ডিসেম্বরের পর সেই পরিকল্পনা অনুসারে আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনের ধরণ কেমন হতে পারে জানতে চাইলে অনেকেই বলেন, আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে থাকবে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা ও কমিশন ঘেরাও, দ্বিতীয় ধাপে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের দাবিতে ঢাকাতে বৃহৎ অবস্থান। তৃতীয় ধাপে নির্বাচনে থাকার যদি সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শেষ সময়ে পাঁচ থেকে ছয় দিনের চূড়ান্ত আন্দোলন।

তারা বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বিএনপি। এরপরও সরকার যদি চূডান্ত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে বাধ্য করে, তাহলে সেই পথেই হাঁটবে বিএনপি।

সম্প্রতি গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। গ্রেফতার অব্যাহত। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও তফসিল ঘোষণার পর বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের অনবরত গ্রেফতার চলছে। সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না তারা।

শেষ পর্যন্ত লেভেল প্লেইং ফিল্ড না থাকলে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসবে কি না জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে লেভেল প্লেইং ফিল্ড না হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, জার্নি হচ্ছে লং হিল জার্নি। আরো নিচের দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে জনগণের কোনো আস্থা সৃষ্টি হয়নি। বস্তুতপক্ষে নির্বাচন ভোটের আগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন কারণে। এ অবস্থা থেকে যদি বেরিয়ে আসতে চান, তাহলে প্রমাণ করতে হবে তারা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চান।

তিনি বলেন, আমরা সংশয় প্রকাশ করছি যে, এটা ক্র্যাশ না করে। আমরা আশা করি, নির্বাচনের বাকী যে দিনগুলো আছে তাতে কমিশন নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নইলে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আরো ‘খারাপের’ দিকে যেতে পারে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে পূর্ণ বিবেচনা করার সময় এসেছে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবসবরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভয়াবহ একটা নির্বাচনের দিকে আমরা এগিয়ে চলেছি।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে সব দাবি-দাওয়া দিয়েছে তার একটিও মানা হয়নি। এরপরও আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তা সব নেতাকর্মীর কাছে চিন্তার বিষয়।

আমরা কি ধরনের নির্বাচনে যাচ্ছি, আমাদের কর্মীদের-নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে- এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা এখন পুর্নবিবেচনার সময় এসেছে।

শেষ পর্যন্ত লেভেল ফিল্ড তৈরি না হলে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে আসবে কি না জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এটা নিয়ে মহাসচিব তো বলেছেন, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে যদি হামলা-মামলা, গ্রেফতার চলতে থাকে, তাহলে কর্মসূচি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, লেভেল প্লেইং ফিল্ড হওয়ার মতো কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এখন বিএনপি আর একা নয়। যেহেতু ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে, কাজেই বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্তে নেবে, সামনে কি করা যায়।

চলমান গ্রেফতার ও মামলা বন্ধ না হলে এবং এর বিরুদ্ধে কার্যত পদক্ষেপ না নিলে কোনো কর্মসূচি দেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত দেখবো। এরপর নিশ্চয়ই একটা সিদ্ধান্তে আসবো। কিন্তু সেই ধরণটা নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে আলোচনা হলে ধরণটা বোঝা যাবে। এখন আমরা নির্বাচনী যুদ্ধের মধ্যে আছি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার যুদ্ধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের যুদ্ধ। একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ার যুদ্ধ। সুতরাং সেটা নিশ্চিতে শেষ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো।

কি ধরণের কর্মসূচি নেয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। দেখি আরো কিছুদিন, দেখা যাক, কি অবস্থা হয়। মনোনয়নগুলো আগে জমা হোক। মার্কাগুলো যাক। এরপর পরিস্থিতি বুঝবো যে, কি হচ্ছে। সেই ধারা অব্যাহত থাকলে নিশ্চই আমাদেরকে একটা পদক্ষেপ নিতেই হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ