বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হবেই, না হলে দায় রাজনৈতিক দলগুলোর: উপদেষ্টা শারমীন

১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হবেই, না হলে দায় রাজনৈতিক দলগুলোর: উপদেষ্টা শারমীন

সংগৃহীত

গণভোট সফল করার দায়িত্ব শুধু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একার নয়, দেশের সব রাজনৈতিক দলেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

তিনি বলেছেন, সংস্কারের এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে। যেসব রাজনৈতিক দল গত ৫৪ বছরেও সংসদে প্রবেশের সুযোগ পায়নি, এই সংস্কারের মাধ্যমেই তাদের জন্য সেই সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে একটি গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “গণভোটের প্রশ্নে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। আমরা পরিবর্তন চাই, সংস্কার চাই, দুর্নীতি চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সুশাসন থাকবে। সরকার পরিবর্তন হবে, রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে-যাবে, কিন্তু স্বচ্ছতা ও সুশাসনের নীতিমালা বারবার বদলানো যাবে না। সেই লক্ষ্যেই একটি শক্ত ও কার্যকর রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এবার সময় এসেছে গণভোটে রায় দিয়ে সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার। কোনো একটি রাজনৈতিক দল যুগের পর যুগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পাবে না। তবে যারা সংস্কারের বিপক্ষে মত পোষণ করেন, তাদেরও ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সরকার কাউকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করছে না, কারও হাত মুচড়ে ধরা হচ্ছে না।”সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নে নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হবেই। সেই লক্ষ্যেই সরকারের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে যদি কোনো অঘটন ঘটে, তার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।”

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, গণভোট মানে স্বৈরাচারমুক্ত ও গণতন্ত্রমুখী একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা। এই গণভোটের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। অর্থাৎ একজন প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, যাতে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা দেখেছি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে কীভাবে উগ্র স্বৈরাচার জন্ম নেয় এবং দেশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। আমরা আর সেই পথে ফিরতে চাই না।

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের গণআন্দোলন আমাদের স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে যে আগামী দিন আর আগের মতো থাকবে না। ৫ আগস্টের আগের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই সেই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই সংস্কারের পক্ষে দাঁড়ানো।”

 

উপদেষ্টা বলেন, “সংস্কার বাস্তবায়নে আপামর জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। আমরা এমন একটি সরকার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি, যারা ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চায়। এই নতুন বাংলাদেশ গড়তেই আজকের এই গণভোট। জনগণ সচেতনভাবে যদি এর পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে দেশ একটি বড় পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাবে। আর যারা এর বিরোধিতা করবে, তারা কার্যত গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবে।”

তিনি বলেন, “গণভোটের প্রশ্নে রাষ্ট্র বা সরকার নিরপেক্ষ নয়। আমরা নৈতিক অবস্থান থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করছি এবং সেই নৈতিক অবস্থান থেকেই জনগণের সম্মতি চাওয়া হচ্ছে।”

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ। সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ: