সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামী ধর্মের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুর্গাপুর সুসং ডিগ্রী কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, স্বাধীনতার উত্তর আমাদের এই অবহেলিত দুর্গাপুর-কলমাকান্দার প্রত্যেকের একটা প্রাণের দাবি– আমাদের একটা সুন্দর, স্বাভাবিক, মানবিক দুর্গাপুর-কলমাকান্দা চাই। সেই মানবিক দুর্গাপুর-কলমাকান্দা গড়তে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ শুধু মাদক নির্মূলের চ্যালেঞ্জ নয়, এই চ্যালেঞ্জ শুধু কিশোর গ্যাং নির্মূলের চ্যালেঞ্জ নয়, এই চ্যালেঞ্জ আমার প্রত্যেকটা হিন্দু ভাইয়ের নিরাপত্তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমার প্রত্যেকটা খ্রিষ্টান কমিউনিটির প্রত্যেকটা চার্চকে নিরাপত্তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমার হিন্দু ভাইদের মন্দির-শ্মশানঘাট নির্মাণসহ তাদের সার্বিক নিরাপত্তা উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমার মুসলমান ভাইদের ঈমান রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আজ পত্রিকায় দেখলাম, জামায়াতে ইসলাম বলছে দাঁড়িপাল্লা বা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট না দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে না। এজন্য আমি বললাম, মুসলমান ভাইদের ঈমান রক্ষার চ্যালেঞ্জ। জান্নাত নির্ধারণ করবেন মহান রাব্বুল আলামিন। কোনো ব্যক্তি বা কোনো রাজনৈতিক দল জান্নাতে কে যাবেন তা নির্ধারণ করতে পারে না। তারা ধর্মের নামে প্রতারণা করছেন। যদি ধর্মের নামে প্রতারণা করেন তাহলে মুসলমান হিসেবে আমার ঈমানটা ভোটের দিন পরীক্ষা করতে হবে কি না বলেন? ১২ তারিখ নির্ধারণ করব মহান রব বা ধর্মকে নিয়ে যারা প্রতারণা করছে, সেই প্রতারকদের ভোটের মাধ্যমে আমরা বিতাড়িত করব ইনশাআল্লাহ।
এসময় মামুনুল হককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এরকমই একটা মঞ্চ হয়েছিল গত ৫ তারিখ। একটা রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনি সেখানে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চেতনায় আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। আমি জানি তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অন্যতম মহানায়ক ছিলেন। অসংখ্য মামলার আসামি ছিলেন তিনি। রাজপথে তিনি লড়াই করেছেন। তার অনেক মামলায় আইনজীবী হিসেবে আমারও লড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের কথা তিনি এই জায়গায় যাকে মনোনয়ন দিলেন, তিনি কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষের শক্তির দোসর ছিলেন।
বিএনপির এই প্রার্থী প্রশ্ন রেখে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের মামুনুল হকের যে প্রার্থী এই আসনে রিকশা প্রতীকে, তার বিরুদ্ধে কি কোনো একটা মামলা হয়েছিল? অতএব তার মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে তিনি কীভাবে জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ গড়তে চান? তা আমাদের এই দুর্গাপুর-কলমাকান্দাবাসীর প্রশ্ন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আজ যদি জুলাই অভ্যুত্থান না হতো, আজ যে শহীদের পরিবার এখানে বসে আছে, সেই শহীদ যদি তাদের প্রত্যেকের রক্ত না দিত, হাজার হাজার ছাত্র যদি রাজপথে বুলেটকে আলিঙ্গন না করত, আমরা কিন্তু আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলার দুঃসাহস তো দূরের কথা, আমরা আমরা দাঁড়াতেও পারতাম না। আজ সেদিনের সেই মামুনুল হকের যে বক্তব্য এবং এই আসনে যে প্রার্থী। আমি মনে করি জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনি এই এলাকায় বেইমানি করেছেন।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট










