সংগৃহীত
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে ‘জেলা’তে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
হান্নান মাসুদ বলেন, হাতিয়াকে তিনটি উপজেলা নিয়ে জেলা করা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুড়িরচরকে পৌরসভা, সোনাদিয়া ও জাহাজমারাকে উপজেলা এবং চানন্দী ও হরনী ইউনিয়ন যুক্ত করে নতুন আরেকটি উপজেলা গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে হাতিয়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে এই দ্বীপকে ভ্যাটিকান সিটির মতো উন্নত ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন। আপনাদের একটি ভোটেই আগামী দিনের হাতিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই ভেবে-চিন্তে ভোট দিন।
নদীভাঙন রোধকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার জনসভায় তুলে ধরেন তিনি। এ সময় দ্বীপটিকে উন্নত, আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এনসিপির এই নেতা।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নদীভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক বাঁধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্রসড্যাম তৈরি, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, সীমান্তবিরোধ নিরসন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, ফেরি ও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, জেলেদের হয়রানি বন্ধ ও জীবনমান উন্নয়ন, নদীবন্দর বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, ওছখালী পৌরসভার উন্নয়ন, ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, স্থায়ী নৌ-ক্যাম্প স্থাপন, হাইটেক পার্ক নির্মাণ, শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং জনগণের মুখোমুখি জবাবদিহি।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহান। এতে আরও বক্তব্য দেন শাহবাগ থানার জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজ, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাস্টার আলাউদ্দিন এবং ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামতউল্লাহ নিরবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট









