• বৃহস্পতিবার   ২৬ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৯

  • || ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩

ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীর মান-অভিমান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২২  

দাম্পত্যজীবনে সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায় স্বামী-স্ত্রী দুই দেহ একপ্রাণ এবং একক সত্তা। এ সম্পর্কের গভীর-গাঢ়ভাবের উচ্চারিত হয়েছে পবিত্র কোরআনে—‘তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাকস্বরূপ। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭)

তবু বহুলব্যবহৃত নারীমুখের উচ্চারণ—‘আমি দেখে সংসার করলাম...! বাচ্চাকাচ্চার দিকে তাকিয়ে খালি!! না হয়...!!!’ মান-অভিমান থাকা ভালো। কারণ ‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলিয়া দেয়...।

’ তবে স্মরণ রাখতে হয়, প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘ওহে নারীরা, তোমরা দান-সদকা করো। কারণ তোমাদের বেশির ভাগকে আমি দোজখে দেখতে পেয়েছি। ’ (এ কথা শুনে) তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), এর কারণ কী? প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা বেশি বেশি অভিসম্পত করো এবং নিজেদের স্বামীর নাফরমানি করো, তাদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। বুদ্ধি ও জ্ঞানে দুর্বল হওয়ার পরও হুঁশিয়ার ও সচেতন পুরুষদের বেকুব বানিয়ে দেওয়ার জন্য তোমাদের চেয়ে বেশি পারঙ্গম আমি আর কাউকে দেখিনি। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে শারীরিক-মানসিক সামঞ্জস্য খুব জরুরি। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘চারটি গুণ দেখে নারীদের বিয়ে করা হয়—১. সম্পদ, ২. বংশ মর্যাদা, ৩. সৌন্দর্য, ৪. ধার্মিকতা। তবে ধার্মিকতার দিক প্রাধান্য দিয়েই তুমি সফল হও, নয়তো তোমার হাত ধূলিধুসরিত হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

সহনশীলতা, ধৈর্য দাম্পত্যসুখের গোপন রহস্য। স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ব্যবহার সম্পর্কে সম্মকধারণা পাওয়া যায় এক নারীর সঙ্গে প্রিয়নবীর (সা.) আলাপচারিতায়। কোনো এক প্রয়োজনে এক নারী প্রিয় নবী (সা.)-এর কাছে এসেছিলেন। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তুমি কি বিবাহিতা?’ তিনি বলেন হ্যাঁ। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তুমি স্বামীর সঙ্গে কেমন আচরণ করো?’ তিনি বলেন, আমি একদম অপারগ না হলে তার সেবা ও আনুগত্যে ত্রুটি করি না। তখন প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে তোমার আচরণ কেমন তা ভেবে দেখো। কারণ স্বামীই তোমার জান্নাত কিংবা জাহান্নাম। ’ (মুসনাদে আহমদ)

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়টি কিছুটা আপেক্ষিকও। এ জন্য প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘উত্তম স্ত্রী হলো (সে-ই, যে) যখন তুমি তার দিকে তাকাও তখন সে তোমাকে আনন্দিত করে। ’

পুণ্যবতী স্ত্রীর জন্য হাদিসে রয়েছে চরম সাফল্যের সুসংবাদ, ‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, সতীত্ব বজায় রাখে এবং স্বামীর অনুগত থাকে; তাকে বলা হবে, তুমি যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করো। ’ (মুসনাদে আহমদ)

অন্যদিকে অসদাচরণকারী স্ত্রীর জন্য সতর্কবার্তা—‘তার কোনো নামাজ কবুল হয় না, কোনো নেক আমল ওপরে ওঠানো হয় না; যতক্ষণ স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট না হবে। ’ (ইবন হিব্বান)

মুসলিম পরিবার দর্শনের ভিত্তি হলো প্রীতিময় সহাবস্থান। পারিবারিক বিরুদ্ধ পরিবেশে শান্তি-স্বস্তির নির্দেশনা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেসব নারীর অবাধ্যতা আশঙ্কা করো, তাহলে তাদের উপদেশ দাও; শয্যাসঙ্গী হতে বিরত রাখো এবং তাদের শাসন করো (সামান্য প্রহার)। যদি তারা অনুগত হয়ে যায় তবে তাদের জন্য অন্য কোনো বিকল্প খুঁজবে না...আর যদি উভয়ের মধ্যে বিরুদ্ধভাব প্রবল মনে করো তবে পুরুষ ও নারীর পক্ষে একজন করে স্বজনকে মীমাংসাকারী মেনে সমাধানে উদ্যোগী হও। যদি তারা সমাধানে ইচ্ছুক হয়, তবে আল্লাহও তাদের প্রতি অনুকূল হবেন। ’ (ভাবানুবাদ, সুরা নিসা : ৩৪, ৩৫)

বস্তুত ইসলাম নারীর অধিকার ও মর্যাদার নিশ্চয়তা দেয় বলেই পবিত্র কোরআনের  একটি সুরার নাম ‘নিসা’ বা নারী। সুরা বাকারা, আলে ইমরান, মায়েদা, আহজাব, নুর ইত্যাদিতে নারীর অধিকার ও মর্যাদাসংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবাদত,  অর্থ উপার্জন ও ব্যয়ে স্বাধীনতাসহ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রে ইসলাম নারীর সব প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ