• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২১ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চৌহালীর বিলে বিলে শাপলায় জীবিকা সংগ্রহ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২  

সিরাজগঞ্জে চৌহালীর বিভিন্ন বিলে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বিস্তীর্ণ জলাভূমিজুড়ে প্রচুর শাপলা ফোটে। আর এই বিল-ঝিলের শাপলা তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন দরিদ্র মানুষরা। বয়স্কদের সঙ্গে ছোটদেরও ফুল তুলতে দেখা যায়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার তাগিদে মানুষগুলো ছুটে যান জলাভূমির বুক থেকে শাপলা তোলার জন্য। দুপুরে এই শাপলা বিক্রি করে চলে তাদের সংসার।

জানা গেছে, সারা বছর খেটে খাওয়া মানুষগুলো কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকে। তবে বর্ষার পর খাল-বিলে, নদী-নালায় পানি থাকায় তাদের কোনো কাজ থাকে না। তাই তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কষ্ট হয়ে পড়ে। এই সময়টাতে শাপলা বিক্রি করে তারা তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। ভাদ্র থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত বিলে আর ছোট নদীতে প্রচুর শাপলা ফোটে। পানি যত গভীর সেখানকার শাপলা তত ভালো হয়।

উপজেলার বিভিন্ন বিল-ঝিলে গিয়ে দেখা গেছে, ডিঙি নৌকা দিয়ে কেউ বিলে মাছ ধরছে, কেউবা নৌকা নিয়ে বিলের মধ্যে যাচ্ছে শাপলা তুলতে।

স্থানীয় সামাদ মোল্লা জানান, তিনি জন্মের পর থেকেই এসব বিলে শাপলা ফুল ফুটতে দেখছেন। শাপলা তুলে স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে বিলের পার্শ্ববর্তী এলাকার অসংখ্য দরিদ্র পরিবার। বিলে আষাঢ় থেকে শুরু করে আশ্বিন মাস পর্যন্ত এই ফুল পাওয়া যায়।

কদালিয়া গ্রামের শাপলা ফুল বিক্রেতা ময়নুল হক ও মজনু মিঞা জানান, ভাদ্র-আশ্বিন কাজ না থাকায় শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করেন। এতে সচ্ছলভাবে চলতে পারেন। তারা প্রতিদিন এই ফুল বিক্রি করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন। বছরের অন্য সময়টাতে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হলেও এই সময়টা তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে।

চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেরিন আহমেদ জানান, শাপলা প্রাকৃতিকভাবে পুরাতন বিল-ঝিলে জন্মে। এর চাষ পদ্ধতি এখনো প্রচলিত হয়নি। শাপলা ফুল সাধারণ সবজি থেকে অনেক বেশি পুষ্টিকর। এতে আলুর চেয়ে সাতগুণ বেশি ক্যালসিয়াম থাকে। অ্যালার্জি, চর্মরোগ, আমাশয়, অ্যাসিডিটিতেও এটা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

মানসিক রোগেও এর ব্যবহার করা হয়। ফলে সবজি হিসেবে বাজারে এর চাহিদাও অনেক রয়েছে বলে জানান তিনি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ