• শনিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৯

  • || ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তাড়াশে জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী নওগাঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নওগাঁ এলাকায় দ্বিনী শিক্ষার আলো ছড়ানোর ব্রত নিয়ে ১৯৫৮ সালে এবতেদায়ী শিক্ষা দিয়ে নওগাঁ শরীফিয়া ফাজিল মাদ্রাসার যাত্রা শুরু। সেই সময় নওগাঁ শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.) মাজার কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা বনের বেড়া আর টিনের ছাউনির এ মাদ্রাসাটিতে তিনটি কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করা হত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অত্র এলাকার শিক্ষা অনুরাগী আর দ্বীন হিতশি ব্যক্তিদের দান-অনুদানে বনের বেড়া আর টিনের ছাউনির মাদ্রাসার জায়গায় একটি পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরে ফ্যাসেলিটিজ ডিপার্টমেন্ট ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আরো একটি তিন কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন। তবুও মাদ্রাসাটিতে শ্রেণিকক্ষ সংকট চরমে।

বর্তমানে  মাদ্রাসায় এবতেদায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে দাখিল পর্যন্ত (প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে) পড়া-লেখা করছে প্রায় ৫’শ ছাত্র-ছাত্রী। অধ্যক্ষসহ শূন্য পদের তিনজনকে বাদ দিয়ে শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন ২৫ জন। শ্রেণিকক্ষ সংকটে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্মিত সেই জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে গাদ-াগাদি করে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ দান করা হচ্ছে। শ্রেণী কক্ষ সংকটের ফলে একই কক্ষে দুই দিক করে বসিয়ে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চলছে। তারপরও শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীদের আবাসিক রুমে এমনকি লাইব্রেরিতেও পাঠদান করা হয়ে থাকে। বেশি মুশকিলে পড়েছে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোন শ্রেণিকক্ষ নাই। মাঝে-মধ্যে মাদ্রাসার সাথে মসজিদের ভেতরেও পাঠদান করা হয়।
এদিকে স্ফ্যাসোলিটিজ ডিপার্টমেন্টের নির্মাণ করে দেওয়া ভবনটির শ্রেণিকক্ষে এক ব্রেঞ্চে পাঁচ-ছয় জনকে গাদাগাদি বসতে হচ্ছে। একটি কক্ষে মাদ্রাসার লাইব্রেরি এবং অফিস করা হয়েছে। সেখানে সঙ্কুচিত হয়েও একসাথে ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী বসতে পারেন না। কয়েকজন অফিস কক্ষে বসেন আর নিরুপায় হয়ে অন্যরা মাদ্রাসার সামনে মাজার প্রাঙ্গনে খোলা আকাশের  নিচে বসে থাকেন। 
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মাদ, রিয়াদ হাসান, রুপম সরকার, শেখ ফরিদ, মো. নাছিম, নুরজাহান খাতুন, সুমাইয়া খাতুন, তাছলিমা জানায়, তাদের পাঁচটি শ্রেণি কক্ষের ছাদ এবং দেয়ালের পলেস্তারা নষ্ট হয়ে সিমেন্ট, বালু ও ইট-খোয়া খসে রড বেড়িয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ কক্ষে ক্লাস করার সময় প্রায়শই ছাদ ও দেয়াল থেকে ইট-খোয়া খসে পড়ে। আতঙ্কে তারা মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতে পারেনা। সিমেন্ট, বালু ও ইট-খোয়ায় তাদের বই-খাতা আর পরনের পোশাক ময়লা লেগে নষ্ট হয়ে যায়। আর এক ব্রেঞ্চে গাদাগাদি বসে গরমে ঘেমে ঠান্ডা-কাশিতে মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।
নওগাঁ শরীফিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যপক আবু বক্কার সিদ্দিক ও সহকারী শিক্ষক মো. আবু শামা জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করার জোড় দাবি জানিয়ে বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান বেশ ভালো। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান বিঘিœত হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় জীর্ণ ভবনের কক্ষগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে বের করে নিয়ে যেতে হয়। তিনি এও বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে নতুন-পুরাতন মিলে ১০টি কক্ষ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি এবং অফিস রুম মিলে অনুরুপ আরো ১০টি কক্ষ প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফকির জাকির হোসেন বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে সরকারিভাবে নওগাঁ শরীফিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভবন নির্মান করা অতিব জরুরি। তিনি শিগগিরই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত আবেদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানোর কথা জানান।’

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ