• শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৯ ১৪২৮

  • || ১৭ সফর ১৪৪৩

অল্প দাম ক্রেতা খুশি, বেচা ভাল বিক্রেতা খুশি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২১  

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদুল আজাহার দিন বুধবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে বসেছিল বাড়ি বাড়ি থেকে পাওয়া কোরবানির মাংস বিক্রির হাট। এদিন বিকেলে শহরের বাজার স্টেশন, বড়পুল, কাজিপুর রাস্তার মোড়, চৌরাস্তা মোড় ও কাঠেরপুল এলাকা ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে। পেশাদার মাংস ব্যবসায়ীরা নয়, এ হাট বসিয়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। 

যারা সারাদিন বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে মাংস পেয়েছেন তাদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি মাংস বিক্রি করে নগদ টাকা উপার্জন করছেন এ হাটে। ফলে তাদের আরেকটু বাড়তি আয় হয়েছে। এতে তারা বেশ খুশি। এ মাংস বিক্রেতা হিসেবে শিশুদেরকেও দেখা গেছে। এ মাংসের হাটে এদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।

এসব হাটে মাংসের ক্রেতাও ছিলেন শহরের নিম্ন আয়ের অভাবি মানুষ। এদের অধিকাংশই রিক্সা চালক,ভ্যান চালক, ফুটপাতে সব্জি বিক্রেতা ও দিনমজুর। মৌসুমী কসাইরা জানান,সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাড়িতে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। আমরা অর্থের বিনিময়ে এ সব পশুর মাংস বানানো ও কোটা বাছার কাজ করেছি। কাজ শেষে তারা আমাদের খাওয়ার জন্য যে মাংস দিয়েছে, তার পরিমাণ একেবারে কম নয়। পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী মাংস রেখে বাড়তি মাংস এখানে এনে বিক্রি করছি। বেশ কয়েকজন কসাই বলেন,আমরা শহরের বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাজের উদ্দেশ্যে এসেছি। এ মাংস বাড়ি পর্যন্ত নিতে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে এখানে বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি যাবো। এতে কিছু বাড়তি আয়ও হবে। এ বিষয়ে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী গ্রামের মাংস বিক্রেতা আসাদুল ইসলাম বলেন, কোরবানির গরু কাটাকাটির কাজ করি। এতে যে মাংস পেয়েছি তা বিক্রি করে দিয়ে নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি যাব।

অপরদিকে পৌর এলাকার মাহমুদপুর গ্রামের বাসের হেলপার সুমন শেখ বলেন, করোনার মধ্যে কাজ কর্ম নেই। অনেক কষ্টে আছি। তাই বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৬/৭ কেজি মাংস পেয়েছি। ৪ কেজি ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আয়শা খাতুন ও আবুল হোসেন দম্পত্তি বলেন, আমরা দুইজন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৮ কেজি মাংস পেয়েছি। স্টেশনে এসে ৭ কেজি ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করলাম। বাকি ১ কেজি রান্না করে খাবো। টাকাগুলো গ্রামে মেয়ে থাকে ওর কাছে পাঠিয়ে দিবো। মেয়ের ঘরে একটা কন্যা সন্তান আছে। নাতীকে জামা-কাপড় কিনে দেবো। মাংস ক্রেতা রনি শেখ বলেন, করোনার জন্য এবার কোরবানি দিতে পারিনি। এজন্য বাজার স্টেশন এলাকা থেকে মাংস কিনলাম। এখানে দাম কম। তিনি আরও বলেন, কোরবানি দিতে না পারলেও ঈদের দিনে কোরবানির মাংস রান্না না করলে ভালো লাগে না। বাচ্চারাও মন খারাপ করে। এ কারণে মাংস কিনতে এসেছি। কসাইয়ের দোকানে যেসব মাংস বিক্রি করা হয় তাতে পানি দিয়ে ওজন বাড়ানো হয়। আবার গরুটা অসুস্থ কিংবা বয়স্ক কি না তাও আমরা জানি না। কিন্তু কোরবানির মাংস নিশ্চিন্তে খেতে পারি।

এদিন বিকেলে সরেজমিনে বাজার স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই রিক্সা বা পায়ে হেঁটে পলিথিন বা ব্যাগে করে এ হাটে মাংস বিক্রি করতে নিয়ে আসছেন। অনেকেই ভাগ সাজিয়ে বসে আছেন। কেউবা ওজন করে দিচ্ছেন। যে ওজন দিচ্ছেন সে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে নিচ্ছেন। ওজনকারী আব্দুস সালাম শেখ বলেন, দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৩৬ কেজি মাংস ওজন দিয়েছি। এতে ১৮০ টাকা পেয়েছি। এতে আমার বাড়তি আয় হওয়ায় আমিও খুব খুশি। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ