মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মহানবী সা.-এর বাবার ইন্তেকাল হয়েছে যেভাবে

মহানবী সা.-এর বাবার ইন্তেকাল হয়েছে যেভাবে

সংগৃহীত

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতার নাম আব্দুল্লাহ। আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ছিলেন সব চাইতে সুন্দর এবং সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি ছিলেন পিতার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। 

আব্দুল মুত্তালিব স্বীয় সন্তান আব্দুল্লাহর বিবাহের জন্য আমিনাকে মনোনীত করেন। বংশ পরম্পরা এবং মর্যাদার দিক দিয়ে তাঁকে কুরাইশ গোত্রের মধ্যে উন্নত মানের নারী হিসেবে গণ্য করা হতো। বিয়ের পর আমিনা মক্কায় স্বামী গৃহে আগমন করেন এবং স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতে থাকেন কিন্তু অল্প দিন পরেই আব্দুল মুত্তালিব ব্যবসা উপলক্ষ্যে খেজুর আনার জন্য আব্দুল্লাহকে মদীনা প্রেরণ করেন। তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে তিনি, শামদেশে ব্যবসার জন্য গিয়েছিলেন। ব্যবসার কাজ শেষে এক কুরাইশ কাফেলার সঙ্গে মক্কা ফেরার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাফেলা তখন মদীনায় যাত্রাবিরতি দেয়। সেই অসুস্থতার মধ্যেই সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নাবেগা জা’দীর বাড়িতে তাঁর কাফন দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। 

আব্দুল্লাহর ইন্তেকালের সময় তার স্ত্রী আমেনা গর্ভবতী ছিলেন। তার ইন্তেকালের পর প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন।

আব্দুল্লাহর মৃত্যু সংবাদ মক্কায় পৌঁছলে আমিনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় একটি শোকগাথা আবৃত্তি করেছিলেন। শোক গাথাটি হচ্ছে-

عَفَـا جانبُ البطحـاءِ من ابن هـاشـم

وجاور لَحْدًا خارجـًــا في الغَــمَاغِم

دَعَتْـــه المنــايا دعــوة فأجـابـهــا
  
 وما تركتْ في الناس مثل ابن هاشم

عشيـة راحـوا يحمــــلــون سريـره
 
   تَعَاوَرَهُ أصــحــابــه في التزاحـــم

فإن تـك غـالتـه الــمنـايا ورَيْبَهـا

فقـد كـان مِعْطـاءً كـثير التراحم

 

অর্থ : ‘বাতহার জমিন হাশিমের পুত্রকে হারালো, সে চিৎকার ও গোলমালের মাঝে সমাধিতে সুখস্বপ্নবৎ পরিতৃপ্ত হয়ে গেল। মৃত্যু মানুষের মধ্যে ইবনে হাশিমের মত কোন ব্যক্তিকে ছাড়ে নাই। (কতই দুঃখ জনক ছিল) যখন সেই সন্ধায় লোকেরা তাঁকে মৃতের খাটে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যদিও মৃত্যু এবং মৃত্যুর ঘটনাবলী তাঁর অস্তিত্বকে শেষ করেছে। তবুও তাঁর উন্নততর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহকে মুছে ফেলতে পারবে না। তিনি ছিলেন বড়ই দয়াবান এবং কোমল অন্তঃকরণের অধিকারী।

মৃত্যুকালে আব্দুল্লাহ যে সব সহায়-সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন তা ছিল যথাক্রমে ৫টি উট, এক পাল ছাগল এবং একটি হাবশী দাসী যার নাম ছিল বরকত ও উপনাম উম্মে আয়মান। এ উম্মে আয়মানই নাবী কারীমকে দুগ্ধ  পান করিয়েছিলেন।

সূত্র: Dhaka post