সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, বাজেট আসে বাজেট যায়। ১৯৮৪ সাল থেকে অনেক বাজেটে থেকেছি। অনেক বাজেটে না থেকেও দেখেছি। এসব বাজেটের মধ্যে চরিত্রগত কোনো পার্থক্য দেখিনি। একই পদ্ধতিতে চলে আসছে। ‘গদবাধা বাজেট’, ‘গরিব মারার বাজেট’ স্লোগান দিয়েছি আমরা। কিন্তু বাজেটের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মঙ্গলবার (১৮ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেটের পরিবর্তন হতে পারে তখনই যদি আমরা যে টাকাগুলো উপার্জন করি সেগুলো হালাল হয়। কোনো হারাম টাকায় বাজেট করলে সেখানে কোনো বরকত হতে পারে না। সেজন্য আমাদের উপার্জন হতে হবে হালাল। ব্যক্তি উপার্জন যেমন হালাল হতে হবে, তেমনি জাতীয় উপার্জনও হালাল হতে হবে। হারাম জাতিকে কোনো কল্যাণকর কিছু দিতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বাজেট আসলে জিনিসপত্রের দাম আবার বাড়বে—জনগণের মধ্যে এমন আতঙ্ক তৈরি হয়। এমনি তেলের কারণে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাজেট আসলেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণ পেরেশান হয়ে যাচ্ছে। এজন্য কৃষকের বাজেট, শ্রমিকের বাজেট, শিক্ষকের বাজেটকে বিশ্লেষণ করে আমাদের দেখতে হবে জনগণের কল্যাণের জন্য কতটুকু কী করা যায়।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। প্রতিটি মানুষের কুরআন সুন্নাহর মৌলিক জ্ঞান থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, সুদভিত্তিক অর্থনীতি একজন মানুষের জীবনে কিংবা জাতীয় জীবনে কল্যাণ আনতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা সুদকে হারাম করেছেন, কারণ এটি মানুষকে ধ্বংস করে। পক্ষান্তরে আল্লাহ তায়ালা দান ও জাকাতের মাধ্যমে মানুষের প্রতি এহসান করাকে বর্ধিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ এমপি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বলা হলেও বাস্তবে শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচ থাকে। শিক্ষা শুধু পাঠ্যবই ও ফি-নির্ভর না করে বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী হওয়া উচিত। বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও মূলধারার শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই দুই ধারাকে একীভূত করে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব বলেন, আমাদের বাংলাদেশে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হয়। অথচ শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও অন্যান্য দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ ব্যয় করা হয়। তাই আমরা কত পিছিয়ে আছি, সেটি উপলব্ধি করতে হবে এবং শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও ঔপনিবেশিক ধ্যানধারণার প্রভাব থেকে বের হতে পারেনি। তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিক মানুষ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং দক্ষ জনশক্তিও যথাযথভাবে তৈরি করতে পারছে না, যার ফলে বেকারত্ব ও সামাজিক সমস্যা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম, যা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
প্রাক-বাজেট সংলাপে আলোচক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি, দেওয়ান সালাহ উদ্দিন বাবু এমপি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারসহ শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র সংসদের নেতারা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট


.webp)











.webp)