বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশু ধর্ষণ-হত্যা: ৯০ দিনের মধ্যে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড চায় এনসিপি

শিশু ধর্ষণ-হত্যা: ৯০ দিনের মধ্যে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড চায় এনসিপি

সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক শিশু ধর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব ঘটনার বিচার বিচার শেষ করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

আজ (মঙ্গলবার) রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল পল্লবীতে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার পৈশাচিক ঘটনায় জাতীয় নারী শক্তি মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। আমরা এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানাই। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে সারাদেশে তিনটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। নাটোরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ এবং ঠাকুরগাঁওয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা আমাদের সমাজের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পল্লবীর ঘটনাসহ এই ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করে, দেশে নারী ও শিশুরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘর থেকে স্কুল— কোথাও তাদের নিরাপত্তা নেই। এই পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফল। অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একটি সভ্য রাষ্ট্রে এভাবে একের পর এক নারী ও শিশু নিপীড়ন চলতে পারে না।

পল্লবী, মিরপুর, নাটোর ও ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার শুরু করতে হবে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে এই ধরনের পৈশাচিকতা বন্ধ করতে। একই সঙ্গে, ২৪ ঘণ্টায় চারটি শিশু নির্যাতনের ঘটনা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলারই প্রমাণ। কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে তার জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে। নিহত ও নির্যাতিত শিশুদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সামাজিকভাবে তাদের যেন কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ধর্ষণ প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্ষণ রোধে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারগুলোকে আরও কার্যকর ও ভুক্তভোগী বান্ধব করে তুলতে হবে। একটি রাষ্ট্রের সফলতা নির্ভর করে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের নিরাপত্তার ওপর। আজ যখন শিশুরা নিরাপদ নয়, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। আমরা আর কোনো নারী নিপীড়ন চাই না। আমরা চাই না কোনো মায়ের কোল খালি হোক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা সরকার, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে স্পষ্ট করে জানাতে চাই, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় দেশের সব নারী ও সচেতন নাগরিকদের সাথে নিয়ে আমরা রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে আমরা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

২০ মে ২০২৬ || ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন