সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১

স্বাধীনতার পতাকা উড়েছিল একাত্তরের এদিনে, আর নামেনি

স্বাধীনতার পতাকা উড়েছিল একাত্তরের এদিনে, আর নামেনি

সংগৃহীত

স্বাধীন হওয়ার আগেই উড়েছিল বাংলাদেশের প্রথম পতাকা। দিনটি ছিল ২ মার্চ, ১৯৭১ সাল। ছাত্রদের পক্ষে পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব। পতাকা উত্তোলনের পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন তখনকার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব বলেন, পতাকা উত্তোলনের ঘটনা মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত করেছিল। সেদিন সমাবেশ ছিল বটতলায়, কিন্তু বটতলায় পতাকা ওড়ালে সবাই দেখবে না বলে তারা কলাভবনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গাড়ি বারান্দার ছাদ থেকে সেটি উত্তোলন করেছিলেন।

পতাকা ওড়াতে আ স ম আব্দুর রব ছাড়াও ডাকসুর তৎকালীন জিএস আব্দুল কুদ্দুস মাখন, ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ কলাভবনের দোতলায় উঠেন। সেখান থেকে রেলিং টপকে তারা গাড়ি বারান্দার ছাদে অবস্থান নিয়েছিলেন।

এর মধ্যে বেলা এগারটার দিকে ছাত্রলীগের তখনকার ঢাকা নগর শাখার সভাপতি শেখ জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কুড়ি-পঁচিশ জনের একটি দল একটি ফ্লাগমাস্টের মাথায় পতাকাটি বেঁধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে জহুরুল হক হল থেকে বটতলার জনসমুদ্রের দিকে আসতে থাকে।

তখন গগনবিদারী স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ পুরো এলাকা কাঁপছিল বলে এবং অসংখ্য মানুষের মধ্য দিয়ে স্লোগান দিতে দিতে পতাকাসহ ছাত্ররা কলাভবনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। সেখান থেকেই পতাকাটি হাতে নিয়ে অপরাপর ছাত্রনেতাদের সাথে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক পতাকা ওড়ান আ স ম আব্দুর রব।

পতাকাটি হাতে নিয়ে অপরাপর ছাত্রনেতাদের সাথে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক পতাকা ওড়ান আ স ম আব্দুর রব। ছবি: সংগৃহীত

পতাকাটি হাতে নিয়ে অপরাপর ছাত্রনেতাদের সাথে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক পতাকা ওড়ান আ স ম আব্দুর রব। ছবি: সংগৃহীত

সেই অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে মিস্টার রব বলেছেন, ‘পতাকা উত্তোলন স্বায়ত্তশাসন বা দ্বিজাতি তত্ত্বকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছিল। তখন শুধু একটি পথই খোলা ছিল স্বাধীনতা। মানুষের মনে এ ধারণার জন্ম দেয় যে পতাকা হচ্ছে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক সত্তা। বাঙালির স্বপ্ন পূরণের বয়ান হচ্ছে এই পতাকা।’

একটি পতাকা, একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নিজস্বতা এনে থাকে। একাত্তরের এই দিনে লাল-সবুজে হলুদ মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল স্বাধিকারের আহ্বান। কেবল পতাকা উত্তোলন নয়, একাত্তরের এই দিনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক জনসভার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল এই দিনে। পরে ২৩ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বাসভবনে ও স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে সেই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

পতাকা তৈরির ইতিহাস

পতাকাটি তৈরি হয়েছিল আগেই, যার পেছনে ছিল তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্ররা। আ স ম আব্দুর রব বলেন, নিউক্লিয়াসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭০ সালের ৬ জুন সন্ধ্যায়, তখনকার ইকবাল হলের ১১৬ নম্বর রুমে। সেই রাতেই পতাকা তৈরির বিষয়টি শেখ মুজিবুর রহমানকে অবহিত করে তার সম্মতি আদায় করেন আব্দুর রাজ্জাক।

বলে রাখা ভালো, সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমেদ, শিবনারায়ণ সহ একদল ছাত্রকে নিয়ে একটা নিউক্লিয়াস আগেই গঠিত হয়েছিলো। তারাই পতাকা তৈরি ও উত্তোলনের কাজটি করেছিলেন। আর ওই পতাকা স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রের প্রস্তাব করেছিলেন কাজী আরেফ আহমেদ আর স্কেচ করেছিলেন হাসানুল হক ইনু।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তৎকালীন সরকার শিবনারায়ণ দাসের নকশা করা পতাকার মানচিত্রটির বদলে পতাকার মাপ, রং ও এর ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি প্রতিবেদন দিতে বলেন চিত্রকর কামরুল হাসানকে। স্বাধীন হওয়ার পরে পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দিয়ে কামরুল হাসানের ডিজাইনে করা লাল সবুজের পতাকাটিই বাংলাদেশের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্কুলজীবনের মজার স্মৃতিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা
কাজিপুরে ভার্মি কম্পোস্ট সার বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু
১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়
আলো ছড়াচ্ছে কুষ্টিয়ার বয়স্ক বিদ্যালয়
মেয়েদের স্কুলের বেতন না দিয়ে ধোনিদের খেলা দেখলেন তিনি
‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? কীভাবে করবেন?
তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতে
নেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
ঈদের দিন ৩ হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
জুমার দিনে যেসব কাজ ভুলেও করতে নেই