রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

যমুনার চরাঞ্চলে কোরবানির জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৭ হাজার পশু

যমুনার চরাঞ্চলে কোরবানির জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৭ হাজার পশু

সংগৃহীত

সম্প্রতি যমুনার বুকে জেগে উঠেছে চর। এই চরেই বসতি স্থাপন করে গড়ে উঠেছে বারোপাখিয়া, কুরশি, শ্রীপুর, ধীতপুর, চানতারা, ঘোড়জান গ্রাম। এই চরকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে মানুষেরা। স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখানে কৃষিকাজের পাশাপাশি শুরু করে পশুপালনও। বালুর চরে গজে উঠা প্রাকৃতিক  ঘাস খাইয়ে পশুগুলোকে বড় করছে পেশাদার ও শৌখিন খামারিরা।  

এতে চাষিদের যেমন খরচও বেঁচে যাচ্ছে, তেমনি প্রাকৃতিকভাবেই হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে গবাদিপশু। কেবল বালুচরের প্রাকৃতিক সবুজ ঘাস খেয়েই হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে সাড়ে সাত হাজার পশু। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, কোরবানি উপলক্ষ্যে শুধুমাত্র সোনাতুনির চরেই প্রস্তুত হয়েছে ১১২ কোটি টাকার পশু।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনা বিধৌত ছোট্ট একটি ইউনিয়ন সোনাতুনির দুর্গম চর বানতিয়ার, কুরসী, ধিতপুর, ছোট চানতারা বড় চানতারাসহ বিস্তীর্ণ চর জুড়ে রয়েছে সবুজ ঘাস। বিভিন্ন গ্রামে প্রত্যেকের থাকার জন্য আট খানা টিনের খুপরি ঘর থাকলেও প্রতিটি বাড়িতেই দুই থেকে পাঁচটি করে ষাঁড় রয়েছে। দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ষাঁড়গুলোকে মোটাতাজা করছেন তারা।  

ইতোমধ্যে স্থানীয় পশুর হাটগুলোর পাশাপাশি এগুলো রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়তি লাভের আশায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় যত্ন করে গরু লালন পালন করেছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা। বিভিন্ন বাড়ি ও খামারে তারা স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগে দেশি ও বিদেশি জাতের ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, দেশি শংকর, অস্ট্রেলিয়ান, জার্সিসহ বিভিন্ন জাতের ষাঁড় বাছুর ক্রয় করে হৃষ্টপুষ্ট করছেন। মাত্র ৬-৮ মাসে এঁড়ে বাছুর লালন পালন করে কোরবানির ঈদের গরুর হাটে বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়েও বিনিয়োগের চেয়ে বেশি অর্থ আয় করতে পারবে বলে খামারিরা আশা প্রকাশ করেছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বিল্লাল হোসেন জানান, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নের সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ছোলা, সবুজ ঘাস, খৈল, ভুসি, চিটা গুড়, ছোলা, গম, মসুর, কালাই, খেসারি, জব, ভুট্টা খাওয়ায়ে বিভিন্ন গ্রামে ছোট ছোট গো-খামারে দেশি ও বিদেশি জাতের প্রায় সাড়ে সাত হাজার ষাঁড় গরু হৃষ্টপুষ্ট করেছে খামারিরা। যার আনুমানিক বিক্রয় মূল্য প্রায় ১১২ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, এই দুর্গম চরের মানুষগুলো ফসলের মাঠে কৃষিকাজ বা বাড়ির অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ষাঁড় গরু হৃষ্টপুষ্ট করে অতি অল্প সময়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে এলাকাবাসী। একইসঙ্গে এই দুর্গম চর ব্যাপক সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে শৌখিন এবং পেশাদার খামারিদের জন্য।  

সর্বশেষ: