সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১

উল্লাপাড়ায় বড়হর সেতু বদলে দিয়েছে ২০টি গ্রামের মানুষের জীবন

উল্লাপাড়ায় বড়হর সেতু বদলে দিয়েছে ২০টি গ্রামের মানুষের জীবন

সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ফুলজোড় নদীর উপর ইট-পাথর-লোহা-সিমেন্টের যে অবকাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে তার নাম বড়হর সেতু। উল্লাপাড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদীর বড়হর-তেঁতুলিয়া পয়েন্টে এই সেতুটি নির্মাণ হয়েছে। উল্লাপাড়া ও কামারখন্দ উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বড়হর সেতুটি। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় এ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, দুই উপজেলার মানুষদের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

একে শুধুই একটি সেতু বললেও স্থানীয়দের কাছে তা কেবলই সেতু নয়, ২০ গ্রামের মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম নদীর উপর একটি সেতুর স্বপ্ন দেখে বেড়ে উঠেছে। সবাই ভাবতো তাদের একটি সেতু হবে যাতায়াত হবে ভোগান্তিহীন নির্বিঘ্নে।

ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তি কে প্রশ্ন করলে, এই যে সেতুটি হলো- আপনাদের কেমন উপকারে লাগছে জবাবে তিনি জানান, এক সময় কলার ভেউরা দিয়ে লগি মেরে নদী পার হওয়া লাগত। এরপর নৌকা হলো। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার সেতু করে দিলো। মাশাআল্লাহ এখন আর আমাদের কোনো দুর্ভোগ নেই।

স্থানীয় হেলাল নামের এক বাসিন্দা বলেন, যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষ অবহেলিত ছিলো। ফুলজোর নদীর ওপর সেতু না থাকায় যুগের পর যুগ এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য সহজ কোন মাধ্যম ছিলো না। যার ফলে মানুষের দুর্ভোগ আর ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাতে হতো। দুর্ভোগের সেই যুগের অবসান হলো। ব্রিজটি এলাকার মানুষের স্বপ্ন ছিলো। বাস্তবায়ন হওয়ায় পুরো এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।

সেতুসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বাবলু বলেন, সেতুর সঙ্গে সড়কও পাকা হলো। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো গ্রাম। পুরো দৃশ্যপট যেন এ সেতুটাই পাল্টে দিলো।

সিরাজুল ইসলাম নামের আরেক স্থানীয় জানায়, একসময় চার আনা দিয়ে নৌকা পার হতাম, সর্বশেষ নৌকায় ১০ টাকা দিয়ে পার হওয়া লাগতো। এখন নিমিষেই নদী পার হচ্ছি, জমির ফসল যেমন ধান, সরিষা, বিভিন্ন ধরনের শাজ সবজি অনায়াসে হাট বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছি। আমরা এই এলাকা থেকে যেখানেই ইচ্ছে চলে যাচ্ছি।

কামারখন্দ উপজেলার দশশিকা গ্রামের বৃদ্ধ আফজাল মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাড়ি কামারখন্দ উপজেলায় হলেও আমরা বড়হর হাটে নিয়মিত আসি। দীর্ঘদিন নৌকায় মালামাল পারাপার করে হাট করতাম, এতে আমাদের খুব কষ্ট হতো। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ সেতুর। এখানে সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। এখন আমরা খুব সহজে যাতায়াত ও পণ্য সরবরাহ করতে পারছি।

স্থানীয়রা জানায়, কালের বিবর্তনে এ অঞ্চলের হাজার হাজার পেশাজীবী মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নৌকায় পার হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই এলাকাবাসী এই সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বড়হর ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ও অবহেলিত ২০ গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মানুষের চলাচলে আমাদের চাওয়াকে সারা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এই ব্রিজটি তৈরি করে দিয়েছেন।
২০১৮ সালের ২১ আগস্ট সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম বড়হর ব্রিজ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। ব্রিজ নির্মাণের ব্যয় বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্কুলজীবনের মজার স্মৃতিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা
কাজিপুরে ভার্মি কম্পোস্ট সার বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু
১৪ কিলোমিটার আলপনা বিশ্বরেকর্ডের আশায়
আলো ছড়াচ্ছে কুষ্টিয়ার বয়স্ক বিদ্যালয়
মেয়েদের স্কুলের বেতন না দিয়ে ধোনিদের খেলা দেখলেন তিনি
‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? কীভাবে করবেন?
তাপপ্রবাহ বাড়বে, পহেলা বৈশাখে তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতে
নেইমারের বাবার দেনা পরিশোধ করলেন আলভেজ
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
ঈদের দিন ৩ হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন
জুমার দিনে যেসব কাজ ভুলেও করতে নেই