সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

সিরাজগঞ্জের সলপের ঘোল-মাঠা যাচ্ছে সারাদেশে, রমজানে বেড়েছে চাহিদা

সিরাজগঞ্জের সলপের ঘোল-মাঠা যাচ্ছে সারাদেশে, রমজানে বেড়েছে চাহিদা

সংগৃহীত

ভোরেই প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে খাঁটি দুধ সংগ্রহ করে আনা হয়। এরপর সেই দুধ বিশেষ ভাবে তৈরি বড় বড় পাত্রে ঢেলে চুলায় জ্বাল দেয়া শুরু হয়। টানা প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘন্টা চলে দুধ জ্বাল দেয়ার কাজ। এভাবে জ্বাল দিতে দিতে দুধের রং যখন লালটে হয়ে আসে তখন নামানো হয় চুলা থেকে।

পরে জ্বাল হওয়া সেই দুধ পাতিলে করে সারারাত রেখে দেয়া হয় দই তৈরির জন্য। সকালে জমে থাকা সেই দই এর সাথে চিনি ও অন্যান্য উপকরন মিশিয়ে বাঁশের সাথে রশি বেঁধে বিশেষ পদ্ধতিতে টানা হয়৷ এভাবে টানতে টানতে তৈরি হয় সিরাজগঞ্জের সলপের ঐতিয্যবাহী সুস্বাদু ঘোল আর মাঠা।

ঘোল তৈরির কারিগর সোহেল রানা বলেন, আমাদরে সলপ এর তৈরি ঘোল ও মাঠার সুনাম দীর্ঘদিনের। ঐতিয্যবাহী এখানকার ঘোল ও মাঠার চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। আর প্রতি বছর রমজান এলে সেই চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসে সলপের এই ঘোল আর মাঠা কিনতে। এমনকি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানকার ঘোল মাঠা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

ঘোল ও মাঠা উৎপাদনকারি আব্দুল মালেক খান জানান, রোজায় চাহিদা বাড়ায় এখন রাত-দিন ঘোল আর মাঠা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে সবাই। গরম আর রোজার মাস হওয়ায় উৎপাদিত ঘোল ও মাঠার চাহিদা বাড়ায় বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। আমাদের এখানে তৈরিকৃত ঘোল ও মাঠা রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে।

সলপে ঘোল কিনতে আসা নাজমুল হোসেন বলেন, সারাদিন রোজা রেখে একটু তৃপ্তি পেয়ে ইফতারে সপলের ঘোল আর মাঠা থাকতেই হবে। তাই আমরা এখান থেকে ঘোল, মাঠা কিনে নিয়ে যাই। পরিবারের সবাই পছন্দ করে। খেতেও খুবই সুস্বাদু। স্বাদে ও মানে ভালো হওয়ায় অনেকে পাইকারি দামে ঘোল ও মাঠা কিনে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খুচরা দামে বিক্রি করে থাকে।

প্রতি লিটার ঘোল ৮০ টাকা আর মাঠা ১শ টাকা দরে খুচরা দামে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিদিন এই এলাকায় প্রায় ৬শ মণ ঘোল ও মাঠা বিক্রি হয় বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।