শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া ভালো নাকি খোসা ছাড়িয়ে, যা বলছেন পুষ্টিবিদ

পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া ভালো নাকি খোসা ছাড়িয়ে, যা বলছেন পুষ্টিবিদ

সংগৃহীত

মিষ্টি-টক স্বাদের জন্য পেয়ারার জনপ্রিয়তা সবার কাছেই। কাঁচা খাওয়া থেকে শুরু করে জুস, জ্যাম কিংবা স্মুদি—নানাভাবে পেয়ারার ব্যবহার রয়েছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ও হজমে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। তবে পেয়ারার ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে, খোসাসহ খাওয়া ভালো নাকি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত?

অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে—পেয়ারার খোসা কি বাড়তি উপকার দেয়, নাকি এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে? সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপসিখা জৈন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পেয়ারার খোসাসহ খাওয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

দীপসিখা জৈনের মতে, পেয়ারা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি ফল হলেও কীভাবে তা খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, খোসাসহ পেয়ারা খেলে পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন সি-এর মতো অতিরিক্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়, যা ত্বকের গঠন উন্নত করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য পেয়ারার খোসা এড়িয়ে চলাই ভালো।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ও লিপিড প্রোফাইলের অবনতি হতে পারে। সে কারণে উচ্চ রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরল সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য খোসা ছাড়ানো পেয়ারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

কেন পেয়ারা ‘সুপারফ্রুট’?

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

পেয়ারা ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস, যা কমলার চেয়েও বেশি। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে। একটি পেয়ারা থেকেই দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ হতে পারে।

হজমে সহায়ক ও আঁশসমৃদ্ধ

পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, যা হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। আঁশ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে খোসা ছাড়িয়ে খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারা একটি ভালো খাদ্য হতে পারে।

ত্বকের যত্নে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

লাইকোপিন ও ভিটামিন এ-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পেয়ারা ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমায় এবং বয়সের ছাপ পড়া ধীর করে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও গঠন উন্নত হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখে। ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ কমে এবং লিপিড প্রোফাইলের উন্নতি ঘটে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।

খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখার উপায়

মাঝসকালের নাশতা হিসেবে টাটকা পেয়ারা খেতে পারেন

ফলের সালাদে কুচি করা পেয়ারা যোগ করতে পারেন

স্মুদিতে ব্লেন্ড করে পান করতে পারেন

লবণ ও মরিচগুঁড়া ছিটিয়ে খেতে পারেন

ডেজার্ট বা জ্যামে পেয়ারার পিউরি ব্যবহার করতে পারেন

খোসাসহ হোক বা খোসা ছাড়িয়, যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন পেয়ারা একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই সুপারফ্রুট রাখলে সুস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সূত্র: কালবেলা

সর্বশেষ: