সংগৃহীত
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেলেও চলমান শৈত্যপ্রবাহে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখনো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় টানা পাঁচ দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসস্ট্যান্ড এবং চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের জড়ো হতে দেখা যাচ্ছে। আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। অনেকেই জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা বলেন, ভোরে কাজে বের হলেই হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ঠান্ডায় শরীর শক্ত হয়ে যায়। তবুও জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে তীব্র শীতের মধ্যেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি এবং ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। ভোরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম। এখন শীতের কারণে সেগুলোতে ওঠা কষ্টকর। হেঁটে গেলে শরীর কিছুটা গরম হয়, কিন্তু হাত-পা খুব ঠান্ডা হয়ে যায়।
শীতের প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
ব্যবসায়ীরা জানান, সকালে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম থাকে। সাধারণত বেলা ১১টার পর দোকানগুলোতে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান বলেন, আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।












