রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

পায়েলা ফলে ৬০ ভাগই আয়রন

পায়েলা ফলে ৬০ ভাগই আয়রন

সংগৃহীত

পায়েলা এক ধরনের টক মিষ্টি ফল। এই ফলটি গরমের দিনে হকারদের কাছে পাওয়া যায়। স্কুলের বাচ্চাদের কাছে প্রিয় হওয়ার কারণে ঢাকা শহরের স্কুল কলেজের সামনে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলটির দেখা মেলে।

টিপে নরম করে খেতে হয় বলে অনেক অঞ্চলে এটিকে টিপাফলও বলা হয়। এই ফলের অন্যান্য নামগুলো হলো- টিপফল, টিপটিপানি, লুকলুকি, পেলাগোটা, প্যালা, পায়েলা, ঝিটকি, পলাগোটা, টরফই, পানিয়ালা, পানি আমলা, পাইন্না, পাইন্যাগুলা, বেহুই ইত্যাদি। এর ইংরেজি নাম Indian plum বা coffee plum এবং বৈজ্ঞানিক নাম Flacourtia jangomas বা Flacourtia cataphracta। এটি নিচুভূমি এবং পাহাড়ি এলাকার বৃষ্টিবহুল অঞ্চলের ‘উইলো’ পরিবারভুক্ত বৃক্ষ।

এটি ছোট গুল্ম বা বৃক্ষ যা দশ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গাছ কাঁটাযুক্ত। পাতা একক, ডিম্বাকৃতি, কিছুটা লম্বাটে। অগ্রভাগ সুচালো। এর সুগন্ধী ফুল ফোটে গুচ্ছাকারে। ফল গোলাকার মার্বেলের মতো, খোসা পাতলা ও মসৃণ। কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর ফল পাকলে লালচে বেগুনি রঙের হয়। পাকা ফলের ভেতরটা বাদামি বা কালচে গোলাপি রঙের।

মানবদেহের জন্য এই ফলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পায়েলার ভেতর যত উপাদান রয়েছে তার মধ্যে ৬০ ভাগই আয়রন। ক্যালসিয়াম, সালফার, ফসফেট ছাড়াও ১০ ভাগ রয়েছে ভিটামিন সি। অন্যান্য উপাদানও রয়েছে সমানভাবে। তাই এই ফলে রয়েছে চমৎকার ঔষধি গুণ।

পায়েলা ফলের ঔষধি গুণ

১. এ ফল খেলে হজমশক্তি ও লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। হৃদরোগীদের জন্য এটি উপকারী, ভেষজ ওষুধের কাজ করে।
২. পায়েলার ভিটামিন সি খাবারে রুচি বাড়ায় এবং মুখের ক্ষত সারাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
৩. পায়েলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধে সহায়তাকারী প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট। 
৪. এসিডিটির সমস্যা থাকলে পায়েলা খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যাবে।
৫. শরীরে শক্তি যোগাতে পায়েলার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত এই ফল খেলে শরীরের বিষক্রিয়া পদার্থ বের করে দেয়।
৬. এই গাছের পাতা ও ফল ডায়রিয়া রোগের প্রতিরোধক। শুকনো পাতা ব্রংকাইটিস রোগের জন্য বিশেষ উপকারী।
৭. পায়েলা গাছের শিকড় দাঁতের ব্যথা নিরাময়ে কাজ করে। 
৮. গর্ভবতী মহিলারা এই ফল খেয়ে আয়রনের ঘাটতি সহজেই মেটাতে পারবেন।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ: