শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

হাঁস-মুরগি পালনে নারী উদ্যোক্তা শিরিনের সাফল্য!

হাঁস-মুরগি পালনে নারী উদ্যোক্তা শিরিনের সাফল্য!

মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। তাই বাড়িতে বসে না থেকে কিছু করার চিন্তা থেকে শুরু করেন মুরগি ও হাঁস পালন। তাতেই মিলে সফলতা। বলছি মৌলভীবাজারের নারী উদ্যোক্তা শিরিন বেগমের কথা। তিনি হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় গড়ে তোলেন খামার। আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংসারে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারছেন।

জানা যায়, শিরিন বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের গয়ঘর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট। বাবা আগে মাছের ব্যবসা করতেন। এখন বাড়িতেই থাকেন। বোনেদের বিয়ে হয়ে গেছে আর ভাই একজন ইলেকট্রিশিয়ান ও একজন গাড়িচালক। তিনি প্রথমে ১০-১৫টি দেশি মুরগি ও ৪ টি হাঁস পালন শুরু করেন। তারপর ২০২১ সালে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা তার এই ছোট খামারের বিষয়টি জানতে পারেন এবং তার সাথে যোগাযোগ করেন। তারপর তাকে হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে তাদের অর্থায়নে তিনি প্রশিক্ষণ নেন। তারপর বাণিজ্যিকাভাবে খামার গড়ে তোলেন।

শিরিন বলেন, অবসর সময়ে কিছু করার ছিলনা তাই ১০-১৫টি মুরগি ও ৪টি হাঁস পালন করা শুরু করি। আমাদের এখানে একটি বেসরকারি সংস্থা আছে তবে কিভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করবো সেটা বুঝতে পারিনি। তারপর একদিন সেই সংস্থার একজন কর্মকর্তা আমার কাছে আসেন। আমাকে হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন। আমিও সাত দিনের প্রশিক্ষণ নেই।

তিনি আরো বলেন, বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে ৩০০ ব্রয়লার মুরগি পালন করি। এতে বেসরকারি সংস্থা থেকে ১২ হাজার টাকা অনুদান পাই। ব্যবসার প্রথমেই মুরগি বিক্রি করে ৭ হাজার টাকা লাভ করতে পারি। পরের বার খামারে ৪০০ সোনালি মুরগি পালন শুরু করি। এতে ১০ হাজার লাভ করতে পারি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বড় করতেছি। আমার এই কাজটি করে ভাল লাগছে। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় বড় খামার ব্যবসায়ী হতে পারবো।

কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, শিরিন আগে দেশি মুরগি পালন করতো। তার এমন উদ্যোগ নেওয়ার কারণে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। আমি আমার ইউনিয়নের সকল বেকার যুবকদেরও এভাবে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ