শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

তুলা চাষে বিঘাপ্রতি লাভ ৪০ হাজার টাকা

তুলা চাষে বিঘাপ্রতি লাভ ৪০ হাজার টাকা

দেশের উত্তরের কৃষি প্রধান জেলা ঠাকুরগাঁও। এ জেলার সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয় অনেক বেশি এবং সেগুলির মানও অন্য জেলা গুলির তুলনায় বেশ ভালো। তাই কৃষিতে স্বনির্ভর বলা হয়ে থাকে এ জেলাকে। এবার তুলা চাষে আগ্রহ বেড়েছে এ জেলার কৃষকদের মাঝে।

বস্ত্র খাতে তুলার চাহিদা মিটাতে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসছেন অনেক বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন চাষীদের পাশাপাশি বীজ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান গুলো। ভালো জাতের বীজ সরবরাহ করে তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন কৃষকদের। তেমনিভাবে উদ্ধুদ্ধ হয়ে এবার ঠাকুরগাঁও জেলায় উন্নত মানের হাইব্রীড ডিএম-৪ জাতের ফলনে ও খরচের চেয়ে দ্বিগুন লাভবান হওয়ায় খুশি কৃষকরা। অন্যান্য জাতের চেয়ে এজাতের ফলন ও মান ভালো হওয়ায় ব্যাপক সারা ফেলেছে চাষীদের মাঝে ঠাকুরগাঁওয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে চাষ সাথি ফসল ফলিয়ে লাভবান হচ্ছেন দ্বিগুণ।

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। সভ্যতার দিক থেকে বিবেচনায় বস্ত্রই হচ্ছে আমাদের প্রথম মৌলিক চাহিদা। বস্ত্র তৈরিতে এর ব্যবহার অপরিহায্য। তাই বিশ্বের বাজারে দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তুলার চাহিদা। আর আমাদের দেশে পোশাক তৈরিতে এসব তুলার সিংহভাগ আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে। তাই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর যৌথ উদ্যোগে অধিকাংশ তুলা বাংলাদেশ থেকে উৎপাদন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান লাল তীর সীড লিমিটেড বাজারে নিয়ে এসেছে উন্নত হাইব্রীড ডিএম-৪ জাতের তুলার বীজ। যা চাষ করে দ্বিগুন লাভবান হচ্ছেন ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকরা।

এ জেলায় আগে তুলা চাষ সম্পর্কে মানুষের নুন্যতম ধারণাই ছিল না। সেখানে গত ২১-২২ অর্থ বছরে তুলা চাষ হয়েছে উফশী ও হাইব্রীড মিলে ৪২৬ হেক্টর জমিতে ও উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮১৬ মণ বেল তুলা। যার মূল্য ১৮ কোটি টাকা। আর ২২-২৩ অর্থ বছরে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০০ হেক্টর জমি যার উৎপাদন লক্ষমাত্রা অনুযায়ি বর্তমান মূল্য প্রায় ২৮-৩০ কোটি টাকা। এতো টাকার উৎপাদিত হবে শুধু এ জেলা থেকেই।

সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের চাষী নুরুজ্জমান (গোলাপ) বলেন, ‘৩৩ শতাংশের ১৪ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। চাষ করতে বিঘায় খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। এক বিঘাতেই ফলন হয়েছে ১৬ মণ। বর্তমান যার প্রতিমণ বাজার মূল্য ৩ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি বিঘার জমির তুলা বিক্রয় করেছেন ৬০ হাজার টাকা। তাতে মাত্র ৬ মাসে এক বিঘা জমিতে লাভ হয়েছে তার ৩৫-৪০ হাজার টাকা। এখনো সম্পূর্ন হারভেস্ট করা হয়নি তার। জমিতে এখনো রয়ে গেছে অনেক। এছাড়াও তিনি এর সাথে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করেছেন আখ।

জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও লাল তীর সীড কোম্পানির সহযোগিতায় এবং পরামর্শে জেলার কৃষকরা পরিত্যাক্ত জমিতে চাষ করেছেন। চাষীদের অনেকেই এর সাথে সাথি ফলস হিসেব কেউ আখ, কেউ বা কলা, কেউ আবার নানা ধরণে শাক সবজি চাষ করেছেন। এতে এক ফসলের পরিচর্যায় ও খরচে দুই ফসল করতে পেরে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে বলে জানান, তুলা চাষী অর্জুন দেব নাথ ও বেলাল হোসেন, মোতাহার, মাইদুল। তারা জানান, হারভেস্ট করার পরে তুলা গাছ গুলো জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করেন তারা।,

তুলা চাষের সাথে কৃষকরা সাথী ফসলও চাষ করতে পারছেন বলে বেশি করে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন তারা। বোর্ডের পাশাপাশি বে সরকারী কোম্পানি গুলোও কৃষকদের নানা ভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন ও বীজ সরবরাহ করছেন বলে জানান, ঠাকুরগাঁও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পরিদর্শক স্বদেশ চন্দ্র রায়।

ডিএম-৪ জাতের বীজের জার্মিনেশন ভালো ও এর বিঘা প্রতি ১৬-২০ মণ করে ফলন হওয়ায় খুশি কৃষকরা। এছাড়া তুলা উন্নয়ন বোর্ড-ই কৃষকদের কাছে ক্রয় করে এবং এই ফসলের দামও স্থিতিশীল ও একই ফসলের সাথে অন্য ফসল করতে পারায় আগামীতে জেলায় চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন ঠাকুরগাঁও জোনের তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কর্মকর্তা এ কে এম হারুন অর রশিদ।

রংপুর অঞ্চল তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক আবু ইলিয়াস মিঞা বলেন, বর্তমানে কৃষকরা নানা হাইব্রীড জাতের তুলা চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন। তাই বিভিন্ন কোম্পানি বীজ সরবরাহ করার জন্য এগিয়ে আসছেন। এছাড়াও দেশে উৎপাদিত তুলাকে আন্তর্জাতিক মানের তুলা কারার জন্য প্রাইমারের উদ্যোগে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কাজ করছে কোর্টন কার্নেক্ট ও টিএসএমএস। আর এসব তুলা বিভিন্ন জেনার্স এ্যাসোসিয়েশন ও স্পেনিং মিলস্ ক্রয় করে নিচ্ছেন এবং তারা কৃষকদের মুনাফা বিহীন ভাবে তুলা চাষের জন্য ঋণ প্রদান করছেন। এতে করে আমরা কৃষকদের আরও বেশি সুবিধা দিতে পারছি। তাই আগের তুলানয় এখন তুলা চাষে এগিয়ে আসছেন কৃষকরা। উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে আগামীতে তুলার চাষ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ হবে বলেও আশা করেন তিনি।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, এটি এমন একটি ফসল যার প্রতিটি অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-আঁশ থেকে সুতা, বীজ থেকে খৈল ও খাওয়ার তেল পাওয়া যায়। গাছ থেকে জ্বালানি, কাগজ তৈরি ও হার্ডবোর্ড বানানো যায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। যে জমিতে কোনো ফসল হয় না সেই জমিতে পর পর দুই মৌসুম চাষ করলে এর উর্বরতা শক্তি এমন বৃদ্ধি পায় যে তখন সব ধরনের ফসল সহজেই ফলানো যায়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ