সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা নিহত হওয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় অবশেষে ৪৮ ঘণ্টা পর উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) রাত ৮টার দিকে নিহত নারীর ছেলে আব্দুর রহমান ১০ জনকে এজহারনামীয় আসামি ও আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে উখিয়া থানায় মামলার এজাহার জমা দেন।
গত ১৬ মে (শনিবার) রাতে উপজেলার সদর এলাকার টাইপালং গ্রামে নিজের ছেলেকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্থানীয় সব্বির আহমেদের স্ত্রী ছৈয়দা খাতুন (৫৫)।
হত্যা মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, নিহতের ছেলের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে- স্থানীয় রাজাপালং ইউপি নির্বাচনে ৭নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করা উখিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদারকে। এছাড়াও তার ছেলে ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানের নাম আসামিদের মধ্যে ৩ নম্বরে রয়েছে।
এ ঘটনায় অন্য আসামিরা হলেন- পূর্ব টাইপালং গ্রাম তথা রাজাপালং ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সরকারি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের গাড়ি (এম্বুলেন্স) চালক শামসুল আলম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুল করিম ও তার ছেলে ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আকাশ, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ বাবুল, রাজাপালং ইউনিয়ন শ্রমিকদল (দক্ষিণ) এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার, স্থানীয় শামসুল আলমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে জামাল উদ্দিন ও পার্শ্ববর্তী ৮নম্বর ওয়ার্ডস্থ দরগাবিল গ্রামের বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে রফিক উদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
মামলার বাদী আব্দুর রহমান জানান, আমার মাকে ওরা আমার সামনে মেরেছে, নিরীহ কাউকে আসামি করিনি। যাদেরকে আমি চোখে দেখেছি, তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। আমার মায়ের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি আইনি লড়াই লড়ে যাব।
প্রসঙ্গত, রোববার (১৭ মে) দুপুরে টাইপালংয়ের একটি মাঠে সৈয়দা খাতুনের জানাজায় অংশ নেন বিএনপি, জামায়াত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ হাজারো সাধারণ মানুষ।
জানাজায় অংশ নিয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, অপরাধীদের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ ও প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে।
জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারীও বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীদের শাস্তি থেকে রেহাই দিতে না পারে। দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জেলায় এমন ঘটনা নিন্দনীয়, প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে এবং অনতিবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে রোববার বিকেলে উখিয়া থানার সামনে টাইপালংয়ের ৫ শতাধিক গ্রামবাসী উখিয়া-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং কক্সবাজার শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল।
তবে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পর মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট













