মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অপরিকল্পিত পুকুর খননে পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা জমির ধান

অপরিকল্পিত পুকুর খননে পানির নিচে ৩ হাজার বিঘা জমির ধান

সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ: জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে উপজেলার সোনাখাড়া ও ধুবিল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলাবদ্ধতার কবলে। এতে চরম দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় যত্রতত্র পুকুর খনন করায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃষিজমিতে পানি জমে থাকছে। জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম আটঘরিয়া, গোপীনাথপুর, চকদাদপুর, কলিয়া, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, বাশাইল, রাজাপুর ও বোয়াইল গ্রামের কৃষিজমি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জমিতে ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই ক্ষেত পানির নিচে ডুবে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

পশ্চিম আটঘরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করে ধান চাষ করি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে একইভাবে পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে। পুকুর খননের কারণে পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।’

গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আগে এ এলাকায় এত জলাবদ্ধতা ছিল না। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি আটকে যায়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাইনি।’

চকদাদপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাজার হাজার টাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই এ অঞ্চলে কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে কৃষিমন্ত্রীর কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আইনুল হক জানান, আধুনিক পাইপলাইন ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা গেলে হাজারো কৃষক উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। আগামী মৌসুমের আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

১৯ মে ২০২৬ || ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন