সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার পর অবশেষে এই নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে চলছে এই ভোটগ্রহণ। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নারী হল সংসদ নির্বাচনও হচ্ছে। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির সদসরা।
এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৪৫।
নির্বাচনে মোট ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ১৫৭ প্রার্থী এবং হল সংসদের ১৩ পদে ৩৩ প্রার্থী। হলের শিক্ষার্থীদের হল সংসদে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য আলাদাভাবে ভোট দিতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ৬টি গণনা মেশিনে হবে ব্যালট গণনা। ফলাফল ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে। ভোটগণনা সরাসরি দেখানো হবে এলইডি স্ক্রিনে।
উল্লেখযোগ্য প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ ও বামপন্থী মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেল। প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
নির্বাচন সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, আমি আশা করি, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১৯০ জন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ১৭৮টি বুথ। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং একটি হল সংসদের জন্য আলাদা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছেন। প্রার্থীরা শিক্ষার্থী ও ভোটারদের কাছে শেষবারের মতো ভোট ও দোয়া চাইছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।










