রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

চুরি রোধে জ্বালানি তেল পরিবহনে স্মার্ট ব্যবস্থা

চুরি রোধে জ্বালানি তেল পরিবহনে স্মার্ট ব্যবস্থা

সংগৃহীত

আগামী মাস থেকে দেশে প্রথমবারের মতো স্মার্ট ফুয়েল ডিস্ট্রিবিউশন মনিটরিং সিস্টেম (এসএফডিএমএস) চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এজন্য বিপিসির অধীন তিন কোম্পানির আড়াই হাজারের বেশি ট্যাঙ্ক-লরিতে ডিভাইস বসানো হচ্ছে। ১৫ জুন থেকে এই স্মার্ট ব্যবস্থায় সব ধরনের জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মজুদ, সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থাও পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন করা হবে। এজন্য ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। বিপিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব বিভাগ আধুনিকায়ন স্মার্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হলে তেল চুরিসহ সব ধরনের অনিয়ম কমে আসবে। বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব অনুপম বড়ুয়া কালবেলাকে বলেন, এসএফডিএমএসের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ১৫ জুন স্মার্ট পদ্ধতিতে অপারেশন শুরু করব। এর ফলে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে জ্বালালি তেল রিয়েল টাইম মনিটরিং করতে পারব। এ ব্যবস্থা চালুর পর তেল চুরি বন্ধ হবে। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ট্যাঙ্ক-লরির চালকরা কোথাও গাড়ি থামালে আমরা জানতে পারব। পর্যায়ক্রমে পুরো বিপিসিকেই স্মার্ট পদ্ধতির ভেতর নিয়ে আসা হবে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তেল পরিবহনের সময় চুরি বন্ধ করতে এসএফডিএমএস চালু করতে নির্দেশ দেন জ্বালানি সচিব। এর আগে গত মার্চে চট্টগ্রামের বিপিসির প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনের সময় এসএফডিএমএস চালু দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তখন শিগগির এটি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন তিনি।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসএফডিএমএস চালু করার পাশাপাশি বিপিসির সব কার্যক্রম আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনার একটি হচ্ছে এসএফডিএমএস। বিপিসির অধীনে থাকা তিনটি বিপনন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে সারা দেশে তেল সরবরাহ করা হয়। এই তিনটি কোম্পানির অধীনে আড়াই হাজারের বেশি ট্যাঙ্ক-লরি আছে। গত মাস থেকে এসব ট্যাঙ্ক-লরিতে স্মার্ট ডিভাইস লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ডিভাইস স্থাপনের কাজ শেষ হবে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর ১৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। ট্যাংক লরিতে ডিভাইস বসানোর পর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিপিএস ট্রাকার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। অয়েল ট্যাঙ্কার মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে গুগল ম্যাপের সঙ্গে সমন্বয় করে অটোমেটিক আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এতে যাত্রাপথে কোন ট্যাঙ্ক-লরি দাঁড়ালে কেন্দ্রীয়ভাবে তা দেখা যাবে। এমনকি চালকরা কী কথা বলছেন, সেটিও শোনা যাবে।

ওই কর্মকর্তারা জানান, বিপিসিকে আধুনিকায়ন করতে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে পরিবহনের বিষয়টিকে সামনে রেখে কাজ শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে আগামী বছরের মধ্যে পুরো সংস্থাকে আধুনিকায়ন করা হবে। এজন্য বেশকিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিপিসির স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক আইপি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে ড্যাশবোর্ড চালু করা, গ্রাহক সেবা সহজীকরণ ও গ্রাহক ভোগান্তি দূরীকরণে বিপিসির অনুকূলে ৫ ডিজিটের হটলাইন নম্বর চালু করা হবে। এ ছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরএল) স্মার্ট কোয়ান্টিফিকেশন অব রিসিপশন অ্যান্ড ডেলিভারি অব পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টস ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি ইআরএলে ডেভেলপমেন্ট অব ইলেকট্রনিক ডাটাবেজ অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হবে।

জ্বালানি তেল পরিবহন মনিটরিংয়ের জন্য ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত আরও কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিপিসির আওতাধীন বিপণন কোম্পানিগুলোর সব প্রধান স্থাপনার অটোমেশন সম্পন্ন করা; সেক্টরভিত্তিক জ্বালানি তেলের ব্যবহার সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রস্তুতের লক্ষ্যে ডিলার বা এজেন্ট এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাপসভিত্তিক ডাটাবেজ প্রস্তুত করা; জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ চাহিদার প্রাক্কলন প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা ও সোর্সিং; বিকল্প জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষণের লক্ষ্যে বিপিসি ও কোম্পানির সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত গবেষণা সেল স্থাপন করা; মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেম এবং বিভিন্ন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের বিল পরিশোধ ব্যবস্থা এবং বিলের হালনাগাদ তথ্য ও প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করা; তেল মজুত, আমদানি, বিতরণ এবং সরবরাহ সংক্রান্ত রিয়েল টাইম ডাটা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ড্যাশবোর্ড করা।

সূত্র: কালবেলা

সর্বশেষ: