শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

মুজিবনগর দিবস : সব অপশক্তিকে প্রতিহত করার অঙ্গীকার

মুজিবনগর দিবস : সব অপশক্তিকে প্রতিহত করার অঙ্গীকার

সংগৃহীত

স্বাধীনতাবিরোধী সন্ত্রাসীসহ সব অপশক্তিকে প্রতিহত করার অঙ্গীকারে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা ও মেহেরপুরসহ সারাদেশে পালিত হলো ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বুধবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও গার্ড অব অনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, ত্রাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপপ্রচার সম্পাদক আবদুল আউয়াল শামীম, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য কবি তারিক সুজাত, সাঈদ খোকন প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও এম মনসুর আলীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণসহ সারাদেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, যা ইপিআর ওয়্যারলেসযোগে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচার করা হয়।

১৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠনের জন্য মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় সমবেত হন। তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা ছিল মূলত একটি আমের বাগান, পরে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠনের পর এর নাম হয় মুজিবনগর। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

তাজউদ্দীন আহমদকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়। মুজিবনগরের অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্ব ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালিকে চূড়ান্ত বিজয় এনে দেয়।

সূত্র: ভোরের কাগজ