শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

১০০ বছরের অধিক অনাবাদি জমিতে ৪ ফসলের আবাদ

১০০ বছরের অধিক অনাবাদি জমিতে ৪ ফসলের আবাদ

কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে কৃষক আবুল ফজল একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে ১০০ বছরের অধিক অনাবাদি জমিতে ৪ ফসলের আবাদ করে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়েছেন তিনি। কৃষক আবুল ফজল ময়মনসিংহ গৌরীপুর উপজেলা বোকাইনগর ইউনিয়নের বালুচড়া গ্রামের মো. আবুল কাইয়ুমের বড় ছেলে।

পরিবারের অসচ্ছলতার কারণে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময় পরিবারের হাল ধরতে ১৯৯৭ সালে চলে যান ঢাকায়। ফলে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো হয়নি তার।  কিন্তু চাকরির অবস্থা ভালো না হওয়ায় নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে আসেন বাড়িতে। সঞ্চয়কৃত ১ লাখ টাকা নিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। কয়েক দিন পর নিজের ১০২ শতাংশ জায়গা নিয়ে শুরু করেন কৃষি কাজ। সিজনাল এবং অপসিজনাল বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সবজি চাষে তিনি ব্যাপক সফল  হন। তারপর একদিন টিভিতে দেখেন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না।’ এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ১০০ শত বছরের অধিক পরিত্যক্ত ২৭০ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা লিজ নেন। সেখানে ছিল পুরাতন মাটির তৈরি হাঁড়ি পাতিলের যিকজার ও ঝোপঝাড়।

বলতে গেলে মরুভূমির অনুর্বরতা। তিনি এগুলো অপসারণ করে চাষাবাদযোগ্য করে তোলেন। ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে জমিতে দিয়ে উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির করে ৪ ফসলের আওতায় এনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবে  রূপদানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে তিনি নিজেও সফল। ওই জমিতে তিনি সবজি-ফল ও ৬ শত বারমাসি সজিনা গাছ লাগিয়েছেন। কারণ সজিনা উৎপাদনে দাম ভালো পাওয়া যায়। তাছাড়া সজিনা পাতা অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ায় এর পাতা বিক্রি করে বাণিজ্যিকভাবেও লাভবান হওয়া যায়। 
পুষ্টি সম্পন্ন সজিনা পাতা আবুল ফজল নিজের খামারের গরুকেও খাওয়াচ্ছেন, যা থেকে তিনি ভালো ফল পেয়েছেন। ৪টি গরু দিয়ে শুরু করা খামারে এখন ১৫টি গরু রয়েছে তার। খামারটি ছোট পরিসরে থাকলেও বর্তমানে আলাদা করে গরুর শেড তৈরি  করছেন, যাতে ৩০টি গরু পালন করা যাবে। তিনি কোনো ঋণগ্রহণ করেননি। তবে ভবিষ্যতে যদি ব্যাংক থেকে আর্থিক সহযোগিতা পান তাহলে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেবেন। নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ফজল এগ্রো নামে কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। আবুল ফজলের কর্মকাণ্ড দেখে অনেক  শিক্ষিত বেকার যুবক আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপারে উৎসাহ পাচ্ছেন। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আবুল ফজল বলেন, যেকোনো কাজকে ভালোবাসুন। কাজ উপভোগ করুন, অভিজ্ঞতাই আপনার সাফল্যের গতি নির্ধারণ করে দেবে। জীবেনের লক্ষ্য নির্ধারণে মনোযোগী হন। কঠোর পরিশ্রম করুণ তাহলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন। সফলতার জন্য চাই ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রহতা ও কঠোর পরিশ্রম। উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লিপি বলেন, আবুল ফজল একজন আদর্শ কৃষক। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা- ‘এক ইঞ্চি জমিও বাদ যাবে না’ এ ডাকে সাড়া দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি অনাবাদি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষ করে এবং গবাদি পশু পালন করে ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এলাকার বেকার ছেলেদের উদ্বুদ্ধ করছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: