• শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৮ ১৪২৭

  • || ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৩৬

তাড়াশে কুমড়া বড়ি তৈরি করে স্বাবলম্বী

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২০  

শীতের শুরুতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে। শীতের উপাদেয় খাবার কুমড়া বড়ি। গ্রামবাংলার প্রিয় খাদ্যের মধ্যে মাছের ঝোলের সাথে এই কুমড়া বড়ি। অনেক পরিবার কুমড়া বড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
একসময় গৃহস্থের বাড়িতে নিজেদের খাবারের জন্য তৈরি হতো এই বড়ি। গৃহস্থের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে এখন তা ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু পরিবার কুমড়ো বড়ি তৈরি ও বাজারজাত করে থাকে। এই পরিবারগুলো শীত মৌসুমের পুরোটাই বড়ি তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। চাল কুমড়ো আর ডাল দিয়ে তৈরি এই বড়ির সাথে সম্পর্ক মিঠা পানির রকমারি মাছের। দেশের বিভিন্ন জেলাতে কুমড়া বড়ির চাহিদা রয়েছে। বিদেশে ও যাচ্ছে সুস্বাদু এই বড়ি।
সরেজমিনে ্উপজেলার নওগাঁ হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের গৃহবধূরা কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ডালের গুঁড়ো পানি দিয়ে মিশিয়ে ফেলছে। আবার কেউ পলিথিনে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছে। কেউবা বড়িগুলো টিনের উপর রেখে রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন। তারপর সেগুলো বাড়ির গৃহবধূ বা নারী শ্রমিকরা ভালোভাবে ধুয়ে পরিস্কার করে নিয়ে মেশিনে ভাঙিয়ে গুঁড়া করেন। পানি মিশিয়ে পলিথিনের মাধ্যমে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। বড়িগুলো সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানী ঢাকায়সহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে।
কুমড়া বড়ি তৈরির কারিগর আবদুল করিম ও আইযুব আলী বলেন পাইকারী ৫৫ টাকা দরে কিনে খুচরা বাজারে ৬৫-৭০ টাকা দরে হাট-বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে। আরো বলেন ১বস্তা ডাল থেকে যে পরিমাণ বড়ি তৈরি হয় তাতে খরচ বাদে ৭০০ ৮০০ টাকা লাভ হয়। কুমড়া বড়ির সাথে জড়িত নারী শ্রমিক আসমা ও আয়েশা খাতুন জানান, সারাদিন কাজ করে ১৫০-২০০ টাকা মজুরি পাই। অভাবের সংসার বাড়তি আয় জন্য সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে কুমড়ো বড়ি তৈরি করি।। এদের মত বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক নারী শ্রমিক এ কাজের সঙ্গে জড়িত।
কুমড়া বড়ির সফল খামারী আলামিন হোসেন বলেন আমি প্রায় ১৮-২০বছর যাবত এই ব্যবসা করছি । আল্লাহর অশেষ রহমতে আগের চাইতে অনেক ভাল আছি। কুমড়া বড়ি সুস্বাদু হওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পুঁজি সংকটের কারণে চাহিদা মতো তৈরি করতে পারছিনা। অর্থের অভাবে এনজি থেকে বেশি সুদে টাকা নিয়ে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছি। লাভের বেশি অংশই সুদ গুণতে হচ্ছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর