বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

নিজেদের ট্রফি মরক্কোকে দিতে রাজি নয়, ক্রীড়া আদালতে আপিল সেনেগালের

নিজেদের ট্রফি মরক্কোকে দিতে রাজি নয়, ক্রীড়া আদালতে আপিল সেনেগালের

সংগৃহীত

জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের (আফকন) শিরোপা জিতেছিল সেনেগাল। কিন্তু দুই মাস পর কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) আপিল বিচারকরা তাদের সেই জয় বাতিল করে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করে। যার বিরুদ্ধে এবার সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালতে আপিল করেছে সাদিও মানের সেনেগাল। যদিও ঠিক কবে নাগাদ সেই রায় আসবে, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা যাচ্ছে না।

এর আগে সেনেগাল সরকার আফ্রিকান ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ‘সন্দেজনক দুর্নীতি’ তদন্তে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টকে (সিএএস) আহবান জানিয়েছিল। ক্রীড়া বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ এই আদালত জানিয়েছে, সেনেগাল ফেডারেশন আপিল করতে বাড়তি সময় চেয়েছিল, কারণ তখনও সিএএফ সেনেগালের বিরুদ্ধে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা দেওয়ার রায় নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেনি।

দ্রুততম সময়ে এই আপিলের রায় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এক বিবৃতিতে সিএএসের মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি যে দলগুলো এবং তাদের সমর্থকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আমরা নিশ্চিত করব যেন সকল পক্ষের ন্যায্য শুনানির অধিকার বজায় রেখে সালিশি কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হয়।’ যদিও এর আগে সিএএফ–এর ডিসিপ্লিনারি প্যানেলের সাবেক প্রধান রেমন্ড হ্যাক বিবিসিকে ছয় মাসের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন।

গত ১৮ জানুয়ারি রাবাতের ফাইনালে মরক্কোকে স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ওই সময় পর্যন্ত দুই দলের স্কোর ছিল গোলশূন্য। রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কোচ পাপে থিয়াওর নেতৃত্বে সেনেগাল খেলোয়াড়রা ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে ছিলেন। মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেছিল ভক্তরাও। লম্বা সময় পর মাঠে ফেরে সেনেগাল। যখন খেলা শুরু হয়, তখন মরক্কো ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজের স্পটকিক রুখে দেন সেনেগালিজ গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দি এবং এরপর অতিরিক্ত সময়ে তারা ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন।

এর আগেও একবার মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার কয়েক মিনিট আগেই সেনেগালের একটি গোল বাতিল করা হয়। স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে গোলটি বিল্ডআপের সময় হওয়া আব্দুলায়ে সেকের ফাউলের কারণে বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে মরক্কো ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির সঙ্গে তার ছোঁয়া লেগেছে সামান্য। সেই উত্তেজনা আরও চরমে উঠে পরবর্তীতে মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ায়। সেই ঘটনা এখন অতীত, ১-০ গোলে জিতে সেনেগাল উদযাপনে মাতার দুই মাসও পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই শিরোপা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

dhakapost

মাঠে বিশৃঙ্খলার দায়ে সিএএফ প্রাথমিক শাস্তিমূলক শুনানিতে ১০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা আরোপ করেছিল সেনেগালকে। একইসঙ্গে সেনেগাল ও মরক্কোর খেলোয়াড় ,অফিসিয়ালদেরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু ফলাফল অপরিবর্তিত ছিল। আপিল বোর্ড সেই রায় বদলে দিয়েছে। মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সেনেগালকে ‘ফাইনালের অযোগ্য দল’ ঘোষণা করে তাদের ১-০ গোলের জয় পরিবর্তন করে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী রায় দিয়েছে মরক্কোকে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট