• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৫ রজব ১৪৪৪

স্মার্টফোন হ্যাক হলে পাঁচটি লক্ষণ দেখা দেয়, জেনে নিন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩  

আট থেকে আশি, আজকাল প্রায় সবাই হাতেই একটি স্মার্টফোন থাকে। গত এক দশকে এই ডিভাইস আমাদের জীবনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এই বিপুল জনপ্রিয়তার কারণেই হ্যাকারদেরও এখন লক্ষ্য হয়ে উঠেছে, স্মার্টফোন হ্যাক করা। অনেকেই মনে করেন, শুধুমাত্র জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ফোন হ্যাক করা হয়।

বিষয়টি কিন্তু তা নয়। যেকোনো ব্যক্তির স্মার্টফোন হ্যাক হতে পারে। নিয়মিত হাজার হাজার সাধারণ মানুষের স্মার্টফোন হ্যাক হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। তবে, হ্যাক হওয়ার পরেও অনেকে তা না বুঝে ফোন ব্যবহার চালিয়ে যান, যা সত্যিই বিপজ্জনক। অনেকে আবার বড়সড় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পরেই বুঝতে পারেন, যে তাদের ফোন হ্যাক হয়েছিল। স্মার্টফোন হ্যাক হলে ডিভাইসের মধ্যে থাকা সব তথ্য হ্যাকারের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেকেই এইভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন। এমনকি হ্যাকাররা বাড়ি বসে আপনার ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে আপনি কী করছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করছেন, তা-ও দেখে নিতে পারেন।

যে কোনও স্মার্টফোন হ্যাক হলে, তা বোঝার কিছু উপায় আছে। তাই, কোন-কোন দিকে সব সময় নজর রাখবেন, জেনে নিন। এর মধ্যে যে কোনো রকম সন্দেহ দেখা গেলেই, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজে না জানলে সেই সময় যোগাযোগ করতে হবে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।

স্মার্টফোন হ্যাক হলে ফোনে কী কী লক্ষণ দেখা যাবে?

অত্যধিক ব্যাটারি খরচ: স্মার্টফোনে হঠাৎ দ্রুত ব্যাটারি শেষ হয়ে যাচ্ছে? ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতা নিয়মিত কমলে তা ধীরে ধীরেই কমতে থাকে। হুট করে ব্যাটারি কমলে বুঝতে হবে বেগতিক! এক ধাক্কায় ফোনের ব্যাটারি ব্যাক আপ কমে গেলে, আপনার ফোন হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হ্যাকাররা ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ চালাতে থাকে, এই কারণে কমে যেতে পারে ফোনের ব্যাটারি ব্যাক আপ।

ফোন স্লো হয়ে যাওয়া: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ আপনার ফোন স্লো হয়ে গেলেও স্মার্টফোন হ্যাকিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় এই কারণে ওয়েব পেজ ঠিক মতো লোড হয় না, অথবা বার বার ফোন রিস্টার্ট হতে শুরু করে। ব্যাকগ্রাউন্ডে ম্যালিশিয়াস অ্যাপ চলার কারণেই এই ধরনের সমস্যা চলতে থাকে। অনেক সময় আবার হ্যাকাররা ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংও চালাতে থাকে, যা আপনার প্রসেসরকে ব্যস্ত রাখে।

অজানা বিজ্ঞাপন: অনেক হ্যাকার আপনার ফোনে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে রোজগারের উপায় খুঁজে নেন। এই কারণে আপনার ফোন হ্যাক হওয়ার কারণে বারবার ফোনে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হয়। এমনকি নোটিফিকেশনে অথবা ফুল স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় অনেক সময়। হঠাৎ ফোনে এই রকম সমস্যা দেখা গেলে বুঝবেন, আপনার ফোনে অ্যাডওয়্যার অ্যাটাক হয়েছে। এটিও এক ধরনের হ্যাকিং।

ফোনে অজানা অ্যাপের উপস্থিতি: হঠাৎ আপনার ফোনে যদি এমন কোনো অ্যাপ দেখতে পান, যেটা আপনি ইনস্টল করেননি, তবে আপনার ফোন হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপে, গুগল ক্রোমের মতো জনপ্রিয় অ্যাপ ফ্রিজ় হতে শুরু করলেও, ফোন হ্যাক হওয়ার প্রভূত সম্ভাবনা থাকে।

ডেটা ব্যবহার বৃদ্ধি: আপনি ফোনে কিছু না করলেও যদি হঠাৎ আপনার ফোনে মাত্রাতিরিক্ত হারে ডেটা ব্যবহৃত হয়, তাহলেও ফোন হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় আপনার ফোন থেকে ডেটা নিজের সিস্টেমে নেয়ার জন্য, আপনার ফোনের ডেটা ব্যবহার করে হ্যাকাররা। এই কারণে হঠাৎ ডেটা ব্যবহার বেড়ে গেলে বুঝবেন, আপনার ফোনে হ্যাকিং অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে।

হ্যাকারকে থামাবেন যেভাবে: হ্যাকিং অ্যাটাক বন্ধ করার জন্য অজানা সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড বন্ধ করতে হবে। Android গ্রাহকরা শুধুমাত্র Play Store থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করুন। এছাড়াও, iPhone গ্রাহকদের App Store থেকে অ্যাপ ডাউনলোডের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশিই আবার, পাবলিক WiFi ব্যবহারেও সতর্ক হতে হবে। কোনো ফোনে হ্যাকিং অ্যাটাক হলে, অ্যান্টি ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে। এরপরে ফোন স্ক্যান করে সন্দেহজনক সব অ্যাপ আনইনস্টল করে দিতে হবে। তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে, ফোন Factory Reset করতে হবে।

সূত্র: এই সময়

 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ