• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৪

গর্ভবতী মায়ের মর্যাদা ও করণীয়

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২২  

গর্ভধারণ মানব জন্মের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। মাতৃত্বের মর্যাদাপূর্ণ এ অবস্থা আল্লাহ তাআলা নারীকে দান করেছেন এককভাবে। নারীর গর্ভাশয়ে আল্লাহর অদৃশ্য কুদরত চলমান থাকে এ সময়ে। গর্ভবতী নারীদের এ এক পরম সৌভাগ্য।

একটি হাদিসে নারীর সন্তান ধারণের ত্যাগ ও কষ্টকে ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুল (সা.) বিখ্যাত নারী সাহাবি উম্মে সালামা (রা.)-কে বলেছিলেন, তোমাদের কেউ কি এতে খুশি নয় যে সে যখন স্বামীর পক্ষ থেকে গর্ভবতী হয় এবং স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্টও থাকে, তখন (এই গর্ভকালীন) সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বদা রোজা পালনকারী ও সারা রাত নফল ইবাদতকারীর মতো সওয়াব পেতে থাকবে। তার যখন প্রসব ব্যথা শুরু হয়, তখন তার জন্য নয়ন শীতলকারী কী কী নিয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়, তা আসমান-জমিনের কোনো অধিবাসীই জানে না। সে যখন সন্তান প্রসব করে, তখন তার দুধের প্রতিটি ফোঁটার পরিবর্তে একটি করে নেকি দেওয়া হয়। এ সন্তান যদি কোনো রাতে তাকে জাগিয়ে রাখে (অসুখ ইত্যাদির কারণে বিরক্ত করে মাকে ঘুমাতে না দেয়) তাহলে সে আল্লাহর পথে নিখুঁত ৭০টি গোলাম আজাদ করার সওয়াব পাবে। (তাবরানি, হাদিস : ৬৯০৮)

গর্ভস্থ ভ্রূণ মায়ের রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। এ সময় মায়ের চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতার বিরাট প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। তাই সতর্ক চালচলন ও সুষম খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি চিন্তামুক্ত জীবনযাপন ও উন্নত আমলের প্রতি মনোযোগী হতে হবে মায়েদের। গর্ভাবস্থায় নারীদের নির্দিষ্ট কোনো আমল নেই। তবে সন্তানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ধরে রাখতে হলে দৈনন্দিনের প্রতিটি আমল যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আমলে বিশেষ গুরুত্ব দিলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসন্তানের আশা করা যেতে পারে।

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

প্রথমত, হারাম খাবার থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় যেহেতু মায়ের রক্ত গ্রহণ করে সন্তান বড় হয়, তাই এই রক্তে যেন পাপের সংমিশ্রণ না থাকে। দ্বিতীয়ত, হারাম কাজ যেমন—পরপুরুষের প্রতি

কুদৃষ্টি ও কুকল্পনা করা, টিভি কিংবা ডিভাইসের মাধ্যমে অনৈতিক কোনো কিছু উপভোগ করা, বেপর্দা চলাফেরা করা, প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হওয়া—এসব থেকে বিরত থাকতে হবে; অন্যথায় সন্তানের মাঝে এর কুপ্রভাব পড়তে পারে। কষ্ট হলেও মায়েরা যদি চরিত্রবান সন্তানের আশায় গুনাহমুক্ত জীবনাচারে সচেষ্ট হন, আশা করা যায় আল্লাহ তাঁকে নেক সন্তান দান করবেন, যা তাঁর পরবর্তী জীবনকে করবে সুখময়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কষ্টের সঙ্গেই আছে সুখ। ’ (সুরা : ইনশিরাহ, আয়াত : ৬)

নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া

নামাজ আবশ্যকীয় ইবাদত। মন্দ ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি নামাজ অন্তরে স্থিরতা ও প্রশান্তি আনে। গর্ভকালে মায়েদের মধ্যে অশান্তি ও অস্থিরতা কাজ করে বেশি। তাই যথাসময়ে ফরজ নামাজ ও বেশি বেশি নফল নামাজের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েরা মানসিকভাবে শান্তি ও তৃপ্তি লাভ করতে পারেন। নামাজের সময় হলে রাসুল (সা.) বেলাল (রা.)-কে বলতেন, নামাজের ব্যবস্থা করো এবং এর মাধ্যমে আমাকে তৃপ্ত করো।

(আবু দাউদ, হাদিস : ৪৩৩৩)

আল্লাহর জিকির করা

গর্ভবতী মায়েদের দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা দূর করতে আরেকটি কার্যকর পন্থা হলো জিকির। অবসরে ছোট ছোট জিকিরে সময় ব্যয় করতে পারলে হতাশা ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তর প্রশান্ত হয়। ’  (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

শুকরিয়া আদায় করা

নারীর জন্য মাতৃত্ব আল্লাহর বিশেষ দান ও সৌভাগ্য। অনেক নারী এই সৌভাগ্য থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত থাকেন। সারা জীবন চেষ্টা করেও কোনো কোনো নারী নিঃসন্তান থাকেন। তাই মাতৃত্বের উপলব্ধির পর থেকেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; অকৃতজ্ঞ হয়ো না। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫২)

কোরআন তিলাওয়াত করা

কোরআন বরকতময় একটি কিতাব। কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত ও বরকত বহু হাদিসে উল্লেখ আছে। তাই বরকতময় সুসন্তান পেতে হলে নিয়মিত কিছু না কিছু কোরআন তিলাওয়াত করতে হবে। তা ছাড়া, আনুমানিক ২০তম সপ্তাহের পর গর্ভস্থ সন্তান কোনো কিছু শোনার সক্ষমতা অর্জন করে। তাই গর্ভে থাকা সন্তানকে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়ে দিতে কোরআনের তিলাওয়াত হতে পারে অন্যতম মাধ্যম।

বেশি বেশি দোয়া করা

দোয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে। বিপদাপদে আস্থা ও ভরসা বাড়ায়। গর্ভধারণের নানা জটিলতা ও প্রসব বেদনার কথা মনে করে এ সময়ে মায়েরা অসহায়বোধ করেন। এই অসহায়ত্ব ও দুশ্চিন্তা গর্ভস্থ সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এ সময়ে দোয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত। কারণ গর্ভকালীন দোয়া আল্লাহ কবুল করে থাকেন। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, ‘বলো তো, কে অসহায়ের ডাকে সাড়া দেন, যখন কেউ ডাকে এবং কষ্ট দূর করে দেন?’

(সুরা : নামল, আয়াত : ৬২)

সুতরাং নিরাপদ সন্তান জন্মদান এবং সুস্থ ও সুন্দর সুসন্তান কামনায় বারবার দোয়া করা। কোরআনের ছোট এ দোয়াটিও সব সময় পড়া যেতে পারে—‘রব্বি হাবলি মিনাস সলিহিন’ অর্থাৎ ‘হে রব! আপনি আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন। ’

(সুরা : সাফফাত, আয়াত : ১০০)

আল্লাহ প্রত্যেক গর্ভবতী মাকে সব ধরনের জটিলতা থেকে নিরাপদ রাখুন।

প্রসব-পরবর্তী মা ও সন্তানকে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু দান করুন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ