• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের অন্তর্কোন্দল বেড়েই চলেছে!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের নেতিবাচক ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রসঙ্গ নিয়ে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়েই চলেছে। এমনকি দলের সংস্কারের বিষয়েও নেতারা বিভক্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। সূত্র বলছে, জামায়াতের কমিটি এবং নতুন দল গঠনের ব্যাপারে জামায়াতের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরে সাংগঠনিক বিতর্ক এবং সেই সূত্র ধরে দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ, দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুজিবুর রহমান মঞ্জুর বহিষ্কার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র বলছে, সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতের অন্তর্কোন্দল যে দিন দিন বেড়েই চলেছে তা অনেকটা স্পষ্ট। মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদসহ শীর্ষ পর্যায়ের জামায়াত নেতারা গ্রেফতারের পর থেকেই মূলত দলটির নেতৃত্ব সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নবীন-প্রবীণ অসংখ্য নেতাদের মধ্যে নানা কারণে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দলটির বহিষ্কৃত নেতা মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে, দলের এমন নেতাদের অপসরণ চায় দলীয় ফোরামের তরুণ নেতারা। কেননা, যুদ্ধাপরাধের তকমা নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আর তরুণ সমাজ তা মেনেও নেবে না। আর তাই তরুণ নেতারা যুদ্ধাপরাধের তকমা আছে এমন নেতাদের সরিয়ে দিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জামায়াতের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়াসহ একাধিক সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন। আর প্রবীণ নেতারা সংস্কার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে অপেক্ষাকৃত নবীনদের বহিষ্কারের মাধ্যমে জবাব দিচ্ছেন। যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে তরুণ জামায়াত নেতাদের মত, দলের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে, সেসব নেতাদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করবে না তারা। এসব যুদ্ধাপরাধীদের অপকর্মের দায় নিতে তরুণ নেতারা একদম রাজি নন।

তরুণদের ক্ষোভের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিজামীপন্থী এক জামায়াত নেতা বলেন, দলের বর্তমান শীর্ষ পর্যায়ের অনেক তরুণ নেতা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেন। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বাড়িতে থাকতে না পারলেও শীর্ষ পর্যায়ের অনেক তরুণ নেতারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দল ভাঙার জন্য।

এ বিষয়ে সদ্য পদত্যাগ করা শীর্ষস্থানীয় জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের অপকর্মের দায় তরুণ জামায়াত নেতারা নিতে রাজি নন বলেই নিজামীপন্থী নেতারা মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছেন। বরং তাদের নেতাদের রায় কার্যকরের সময় নিজামীপন্থীরা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। ইসলামী দল হওয়া সত্ত্বেও জামায়াত নেতারা সংস্কারের পক্ষ নিতে পারছেন না এটাই তাদের ব্যর্থতা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জামায়াতের ভূমিকার জন্য এসব নেতারা জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে সংকোচ করছেন কেন সে বিষয়টি রহস্য তৈরি করে আছে।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আরো বলেন, ১৯৮২ সালে মাওলানা আবদুল জাব্বার এবং ছাত্রশিবির নেতা আহমদ আবদুল কাদের বাচ্চুর নেতৃত্বে দলের একাংশের আলাদা করে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করার পেছনে জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়ও ছিল। তার পরে ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত জামায়াত নেতারা সংস্কার নিয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রস্তাব পাঠান। ২০১০ সালের মাঝামাঝি দলের একাংশ কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম আলীর নেতৃত্বে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা পদত্যাগ করেন। কারাগার থেকে ২০১০ সালের নভেম্বরে কামারুজ্জামানের লেখা চিঠি এবং তার পরে দলের প্রতিক্রিয়া বিষয়ে এখন সবাই জ্ঞাত। অতএব, জামায়াতের সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্কোন্দল নিজামীর ইন্ধনেই শুরু হয়েছিল। এখন আমাকে দোষারোপ করে জল ঘোলা করা হচ্ছে মাত্র।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ