• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তারেকের রোষানলে হাফিজ উদ্দিন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানা গণহত্যার তদন্ত প্রকাশের দাবি করে লন্ডনে পলাতক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রোষানলে পড়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ দাবি জানান।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক। পিলখানা গণহত্যায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। পিলখানা হত্যায় জড়িত একটি দলের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পূর্বে আলাপ আলোচনাও হয়েছিলো। আমরা চাই- তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক।

লন্ডন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালিকের ঘনিষ্ঠসূত্রের বরাতে জানা গেছে, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় দাবি জানানোর পর তারেক রহমান সরাসরি টেলিফোনে হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে আওয়াজ তুলে আন্দোলনের চেষ্টা না করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো একটি পুরাতন বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় এটা না। রাজনীতি করতে হবে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে বিএনপি নেতার বক্তব্যে তারেক রহমানের বিরক্তির সম্ভাব্য কারণ সম্পর্ক জানতে চাইলে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আমার মনে হয়, এ বিষয়ে যেকোনো অগ্রগতিকে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ বলে মনে করছেন। অর্থাৎ তার ভয় আছে। যার কারণে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলুক তা তিনি চান না।

গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনুসন্ধানী তথ্যের বরাতে জানা গেছে, বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জড়িত ছিলেন। ওইদিন প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে বিডিআর বিদ্রোহের সূচনা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বিএনপি নেত্রী সেনানিবাসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। যার ফলে রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন উচ্চারিত হয়- খালেদা জিয়া সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে গেলেন কেন? সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন? কোথায় ছিলেন? এমনকি ওই সময় লন্ডনের মধ্যরাতে তারেক রহমান অনবরত প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির কাছে ফোন করেছিলেন। ওই ফোনে কী কথা হয়েছিল?

বিশ্লেষকরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে দায়ী হবেন তারেক রহমান। এ কারণেই তারেক রহমান চান না পিলখানা হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক। তাতেই ফেঁসে যাবেন তিনি নিজেই।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ