বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সিরাজগঞ্জে প্রথম পান চাষ, সাড়া ফেলেছে কৃষকদের মাঝে

সিরাজগঞ্জে প্রথম পান চাষ, সাড়া ফেলেছে কৃষকদের মাঝে

ধান, পাট, আখ ও সবজিসহ অন্যান্য নানা ফসলের আবাদ হলেও সিরাজগঞ্জ জেলার কোথাও পান চাষ হয় না। যার কারণে সিরাজগঞ্জে এবারই প্রথম পান চাষ করে সাড়া ফেলেছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান (৪০)। প্রথম পরীক্ষা মূলকভাবে পান চাষ করে সফল হয়েছেন আতাউর।

প্রায় ৩ বছর চেষ্টার পর পান চাষ করে সফল এবং লাভবান হওয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কৃষকদের মাঝে। তার দেখাদেখি এর মধ্যে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন পান চাষে। পান চাষে আগ্রহী কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষি বিভাগ।  আতাউর জানায়, ২০১৭ সালে রাজশাহীতে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানে পান চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। পরে আত্মীয়র সহযোগিতায় রাজশাহী থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকায় চার হাজার পানের চারা কিনে এনে ১০ শতাংশ জমিতে পানের বরজ তৈরি করেন। পর পর দুবার বেশির ভাগ চারা নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলন ভালো না হওয়ায় বেশ অর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েন। যার কারণে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন। তবে হাল ছাড়েননি। রাজশাহীতে কয়েকবার গিয়ে নিজে মাঠে থেকে পান চাষ, যত্ম ও পানগাছ রক্ষার বিষয়ে পানের চাষ করেন এমন কৃষকদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় আবারো শুরু করেন পান চাষ। অবশেষে সফলতা পান তিনি। খরচ দ্বিগুণ হলেও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় লাভের আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে তার বরজের পান পাতা বড় হয়েছে। বিক্রিও শুরু করেছেন।

আতাউর রহমান জানান, দুইবার ক্ষতির মধ্যে পড়েও হাল ছাড়িনি। আমার দেখার চেষ্টা ছিল ধান, পাট ও সবজির আবাদ হলে পানের চাষ কেন হবে না। অনেক চেষ্টার পরে সেই সফলতা পেয়েছি। তিনি বলেন, এ বছর ১০ শতাংশ জমিতে পান চাষে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। পান পাতা বড় হয়েছে বিক্রিও শুরু করেছি। প্রতিসপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার টাকার পান বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকার পান বিক্রি করেছেন। পান চাষের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে পানগাছের লতা বাড়তি হলে আবার সে লতাগুলো মাটিতে ঢেকে দিতে হয় এখন সেই প্রস্ততি চলছে। সব ঠিকঠাক থাকলে এ বাগান থেকে প্রতিবছর দেড় লাখ টাকার পান বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোস্তম আলী জানান, উপজেলায় পান চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ দিচ্ছি। সিরাজগঞ্জে কৃষক আতাউরের হাত ধরে অন্যান্য কৃষকদের মাঝে পান চাষ সম্প্রসারিত হবে এমন প্রত্যাশা করা যেতেই পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, সিরাজগঞ্জে নানা ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। এর আগে জেলার কোথাও কখনো পানের আবাদ হয়েছে এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমার জানা মতে জেলায় পানের কোনো আবাদ হয় না। তিনি বলেন, সম্প্রতি কৃষক খুবই স্বল্পপরিসরে নিজ উদ্যেগে পানচাষ শুরু করেছেন। আমরা আতাউরের পানের বরজ দেখেছি। বেশ ভালো হয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা ও পরামর্শ দিলে জেলায় অধিক পরিমাণ পান চাষ হতে পারে এবং কৃষক লাভবান হতে পারে বলেও মনে করছি। পান চাষে উদ্যোগী চাষিদের সবধরনের সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: