শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

উল্লাপাড়ায় আপেলের বাগান করে সফল বোরহান

উল্লাপাড়ায় আপেলের বাগান করে সফল বোরহান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি বাগানকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। সেখানে চাষ হচ্ছে আপেলের। বোরহান উদ্দিন নামে একজন এই চেষ্টা শুরু করেছেন। তার গাছে ফলও এসেছে, স্বাদও খারাপ না। উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের খাসচর জামালপুর গ্রামে তিন বছর আগে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত আড়াই শতক জমিতে ৩৫টি আপেল গাছের কলম (প্লান্ট) চারা রোপন করেন। সেখানে সফল হওয়ার পর এখন বাগান বাড়াচ্ছেন।

এই আপেল বাগানের নাম দেয়া হয়েছে ‘হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স আপেল অর্চার্ড’। চারা রোপনের ১১ মাস বয়সেই গাছগুলো বেশ বড় হয়ে ওঠে। ফুলে ফুলে ভরে যায় ৩০টি গাছ। ধীরে ধীরে গাছে ফল ধরতে থাকে এবং তা বড়ও হয়ে ওঠে। বিদেশি ফলের দেশি বাগানের কথা প্রচার হতে সময় লাগে না। দেখতে আসতে থাকে মানুষ।

এই চাষের খবরে দূরের জেলা থেকে মানুষ এসে চাষ পদ্ধতি জানতে আসছে। বাংলাদেশে এই ফলের যে চাষ করা সম্ভব, সেটা জেনে অবাক হচ্ছে সবাই। বোরহান উদ্দিন জানান, তিনি ভারতের হিমাচল প্রদেশের টিস্যু কালচার ল্যাবে আপেল চাষের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দেশের মাটিতে ফলটি ফলে কি না, সেটা পরীক্ষা করতেই রোপন করেন চারাগুলো।

গাছগুলো বড় হয়, ফুল আসে, ফল ধরে। সে ফলের মিষ্টতাও ভালো। পরে ২০১৯ সালে দেড় বিঘা জমিতে পাঁচ জাতের দুইশ কলম (প্লান্ট) চারা রোপণ করেন। আগামীতে বাগান আরও বড় করার ইচ্ছ আছে বোরহানের। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে আন্না, ডোবশেক গোল্ডেন, এইচআরএমএম-৯৯, টফিক সুইট ও গ্রিনিস মিস। এসব জাতের কলমও (প্লান্ট) তিনি হিমাচলের হর্টি কার্লচার বাগান থেকে সংগ্রহ করেন।

বোরহান জানান, বাড়িতে আপেলের বাগান তৈরির ব্যাপারে তিনি হিমাচল প্রদেশের ননি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়জন গবেষক শিক্ষকের পরামর্শ নেন। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, কানাডা, আমেরিকা এবং ভারতের জম্ম কাশ্মিরের হর্টি কার্লচার ডিবিশনের গবেষকদের সঙ্গেও অনলাইনে মতবিনিময় করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রথমে গোবর সার দিয়ে চারাগুলো রোপণ করেন বোরহান। পরে ইউরিয়া, পটাস, জিপসাম, দস্তা, বোরণ ও ম্যাগনেসিয়াম সার গাছে প্রয়োগ করেন।

গত বছর বাগানে ৩০টি গাছে ফল ধরেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে গাছে ফুল ধরে জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে আপেলগুলো গাছে পরিপক্ক হয় এবং এ সময় গাছ থেকে আপেল সংগ্রহ করেন। তার বাড়িতে মধ্যম পর্যায়ে গাছগুলো এখন ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু হয়েছে। গত বছরের জুন-জুলাইয়ে তিনি প্রথমবার ৩০ থেকে ৪০টি আপেল তোলেন।

গাছ পরিপূর্ণ হলে প্রতিটি গাছ থেকে এক থেকে দেড় মণ করে আপেল তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী বোরহান। এর আগে দেশের সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অনেক মানুষ শখ করে বাড়ির ছাদ বা জমিতে আপেল গাছ রোপণ করেছেন। অল্প বিস্তার ফলও পেয়েছেন বলে জেনেছেন বোরহান। তবে বাগান তার আগে কেউ করেনি বলে দাবি তার।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বোরহান উদ্দিন তার বাড়িতে ও জমিতে আপেল চাষ করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি বিভাগ তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।’ সহকারী উপজেলা কৃষি অফিসার হিরণ আলীকে সার্বক্ষণিক বোরহান উদ্দিনের আপেল বাগান দেখাশোনা ও পরামর্শ দেবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: