• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৫ রজব ১৪৪৪

সিরাজগঞ্জে পলিনেট হাউসে ফুল চাষে লাভবান কৃষক

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৩  

পলিনেট হাউসে ফুলের চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার কৃষক শহীদুল ইসলাম। তাঁর পলিনেট হাউসে ফুল চাষ করতে বছরে খরচ হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। আর ফুল বিক্রি করে বছরে পাচ্ছেন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। এ বছর শহীদুলের ফুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। চন্দ্রমল্লিকা, গাদা ও গোলাপ ফুলে ছেয়ে গেছে পলিনেট হাউস। বর্তমানে পলিনেট হাউস থেকে ফুল তুলতে ও বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ফুল বিক্রি করা হচ্ছে। ফুলের চাহিদা রয়েছে অনেক। তার দেখাদেখি এ অঞ্চলের আরও অনেক কৃষক পলিনেটে হাউসে ফুল ও সবজি চাষে উদ্যোগ নিয়েছেন।

পলিনেট হাউস এমন একটি পদ্ধতি যেখানে দীর্ঘমেয়াদী ফুল চাষ করা যায়। শীতের ফুল গরমে ও গরমের ফুল শীতে চাষাবাদ করা যায়। পলিনেট হাউসে ফুল চাষ সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফুলের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে এই পলিনেট হাউসে। এখন আর জমি পতিত পড়ে থাকতে হবে না। পলিনেট হাউসে সারা বছরই চাষাবাদ করা হচ্ছে ফুল ও ফসলের। ইতোমধ্যে দুজন কৃষক কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানায়, আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দিতে একটি পলিনেট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। এই পলিনেট হাউসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফসল ও ফুলগুলো চাষাবাদ  করা। বিশেষ করে লেটুস, ক্যাপসিকাম ও বিভন্ন ফুল চাষাবাদ করা।

আবার শীতকালীন ফুল ও ফসল গ্রীষ্মকালীন সময়ে চাষ করা যায়। পলিনেট হাউসে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনেক সময় শৈত্যপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টির কারণে উচ্চমূল্যের ফসলগুলো চাষাবাদ করতে সমস্যা হয়। কিন্তু পলিনেট হাউসে এই সমস্যা থাকবে না। আগাম ফসল এখানে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।

কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পলিনেট হাউসে চাষাবাদ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ থাকা যাচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যে উন্নতমানের টমেটো, ক্যাপসিকাম, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি চাষাবাদ করা যায়। এতে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক সময় ফসল চাষাবাদের পর জমি ফাঁকা থাকতো। তখন কোনো কিছু চাষাবাদ করতে পারিনি। কিন্তু পলিটেন আসার পর এখন আর জমি পতিত থাকে না। এই সমটায় বিভিন্ন ফুল চাষের উদ্যোগ নেই। এ বছর ফুলের বাম্পার ফলন হয়েছে।’

কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য আবাদের চেয়ে ফুল চাষ বেশি লাভজনক। আমাদের এখানে চাষাবাদ বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে কৃষি কার্যালয় আমাদের সহযোগিতা করছে।’

স্থানীয় শাহিন আলম বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলে পলিনেট হাউজে ফুলের চাষাবাদ হচ্ছে। এতবড় পলিনেট হাউস আর কোথাও নেই। এর মাধ্যমে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছে তেমনি শহিদুল ইসলামের পলিনেট হাউস দেখে অনেক কৃষক এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার উদ্যেগ নিয়েছে। এটি দেখার জন্য মাঝে মধ্যে এখানে আসি। দেখতে খুব ভালো লাগে।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পতিতপাবণ রায় বলেন, ‘পলিনেট হাউসে ফুল চাষ সিরাজগঞ্জে এই প্রথম। পলিনেট হাউসে দীর্ঘমেয়াদী ফুল চাষ করা যায়। শীতের ফুল গরমে এবং গরমের ফুল শীতে চাষাবাদ করা যায়। এটি খুব লাভজনক ব্যবসা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পরামর্শ দেওয়া হয়। পলিনেট হাউস তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।’

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলায় একটি পলিনেট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে কৃষক লাভবান হচ্ছেন।’

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ