• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ১০ রজব ১৪৪৪

সিরাজগঞ্জের খিরা যাচ্ছে সারাদেশে

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০২২  

সিরাজগঞ্জে এ বছর আগাম জাতের খিরার বাম্পার ফলন ও ভালো দামে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এখানকার খিরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে স্থানীয় আড়ৎগুলোতে খিরা বেচাকেনা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা গিয়ে খিরা ক্রয় করে নিয়ে যান।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি খিরা চাষ হয়ে থাকে। এ বছর উল্লাপাড়াতে ২৪০ হেক্টর ও তাড়াশে ৩০৬ হেক্টর জমিতে খিরা চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ হলেও বাস্তবে এর চেয়ে বেশি আবাদ হবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। ইতোমধ্যেই আগাম জাতের খিরা বাজারে উঠেছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার আগাম খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। কাক ডাকা ভোর থেকে খিরা তোলা ও বিক্রি নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খিরা চাষিরা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই ওই দুই উপজেলার উচুঁ জমিতে অন্য ফসলের পাশাপাশি অধিক লাভের আশায় আগাম সবজি হিসেবে কৃষকরা খিরা চাষ করেন। উর্বর মাটিতে ফলনও বেশ ভালো হয় বলে জানায় কৃষি বিভাগ। জেলার সর্ব বৃহৎ আড়ৎ উল্লাপাড়ার কয়রা বর্ধনগাছা ও চাকসা খিরার আড়ৎ। পুরো মৌসুম শুরু হলে এখান থেকে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক খিরা বিক্রি হয়।

উল্লাপাড়া উপজেলা চরপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল মন্ডল বলেন, এ বছর তিনি ৩০ শতক জমিতে দেশি প্রজাতির আগাম খিরার চাষাবাদ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা খিরা বিক্রি করেছেন। আরো ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব বলে আশা আছে। একই গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন বলেন, পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় এবার খিরার ফলন ভালো হয়েছে। মৌসুমে প্রথম দিকে তিনি ২৫০০ টাকা মন দরে খিরা বিক্রি করেছেন। এখন ১৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। জমি থেকে গিয়ে পাইকাররা খিরা নিয়ে যান। খিরার মতো কোনো ফসলেই এত লাভবান হওয়া যায় না, তাই প্রতি বছরই এ চাষ করি। উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে কম বেশি খিরা চাষ হয়ে থাকে। এখানকার খিরার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।

খিরা ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, এ বছর খিরার দাম ভালো পেয়েছি, বাজারে বিক্রি করে লাভবানও হচ্ছি।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আমরা কৃষকদের মৌসুমি বিভিন্ন সবজি ও ফসল চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করেছি। বন্যার পর উঁচু জমিগুলোতে আমরা খিরা চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছি। গত বছরের তুলনায় এবার খিরা চাষ বেশি হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, এ বছর এই উপজেলায় ৩০৬ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যেই আগাম জাতের খিরা উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ