• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঈদে লাভের মুখ দেখেছেন সিরাজগঞ্জের খামারিরা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২২  

করোনার দুই বছর লোকশানের পর এবার কোরবানি ঈদে লাভের মুখ দেখেছে সিরাজগঞ্জে গবাদি পশুর খামারি ও ব্যাপারীরা। রাজধানী থেকে এবার তারা হাসিমুখে নিজ নিজ ঘরে ফিরেছেন। অনেকেই বলেছেন গত দুই বছরের লোকসান কিছুটা হলেও তুলতে পেরে তারা আনন্দিত। তবে এবছর খামারি ও ব্যাপারীরা ঢাকায় পশু নিয়েছেন ভয়ে ভয়ে যে, আবার তাদের লোকসানের মুখে না পড়তে হয়। কারণ, এবার গবাদি পশুর খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পশু পালনে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। তাই এত দামে পশু কিনে ঢাকায় নিয়ে লাভ হবে না কি লোকশান গুনতে হবে- এ নিয়ে শংশয় ছিল। কিন্তু এবার সব শংশয় দূর করে খামারি ও ব্যাপারীরা লাভের মুখ দেখেছেন। এতে তারা বেজায় খুশি।

জেলার এনায়েতপুর থানার ব্যাপারী শহিদুল ইসলাম জানান, এবছর ভয়ে ভয়ে ১০টি ষাড় কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। একই এলাকার সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ১শ ষাড় কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেছেন এবং ভালো লাভ হয়েছে। সিরাজগঞ্জের হামকুড়িয়া এলাকার আখতারুজ্জামান জানান, এবছর তিনি ৫০টি গরু ঢাকায় নিয়ে সবগুলিই বিক্রী করেছেন। এতে ভালই লাভ হয়েছে বলে তিনি জানান ।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য ১৫ হাজার খামারে ৩ লাখ ৯০ হাজার গরু তৈরি করা হয়েছিল। জেলায় কোরবানির চাহিদা ছিল প্রায় আড়াই লাখ, বাকী পশু রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে স্থানীয় খামারি সূত্রে জানা যায় এ বছর যারা স্থানীয়ভাবে পশু বিক্রি করেছে তাদেরকে লোকশান গুনতে হয়েছে। এ ব্যাপারে সদর উপজেলার রামগাঁতী গ্রামের খামারি ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি এবার ৯টি ষাড় তৈরি করেছিলেন। এর মধ্যে ৬টি বিক্রি করতে পেরেছেন বাকি ৩টি রয়ে গেছে। একই এলাকার খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর কোরবানির জন্য ৯টি ষাড় প্রস্তুত করেছিলেন এর মধ্যে ৬টি বিক্রি করেছেন বাকি ৩টি বিক্রি করতে পারেননি। তিনি আরো জানান, যে ৬টি বিক্রি করেছেন সেগুলিও লোকশানে বিক্রী করেছেন ।

এ ব্যাপারে পশুর রাজধানী খ্যাত শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, এবছর যে সব পশু ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নেয়া হয়েছিল প্রায় সবগুলিই বিক্রি হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জানান, জেলায় প্রায় ৪ লাখ পশু কোরবানির জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ কোরবানি হয়েছে। বাকি পশু রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় খামারি ও ব্যাপারীরা নিয়ে বিক্রি করেছেন। এবার কোন পশু ফেরত আসেনি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ