• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৭ শাওয়াল ১৪৪৩

চৌহালীতে বাঙ্গির বাম্পার ফলন! ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২২  

দিগন্ত জোড়া বিস্তীর্ণ চরজুড়ে যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই কেবল সবুজ-হলুদ সংমিশ্রণে বাঙ্গি চাষের সমারোহ দেখা যায়। এ বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাঙ্গির বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম ফসল ফলায় দাম বেশি পেয়ে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। অল্প পরিশ্রম ও খরচে বেশী লাভবান হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রতিবছরই বাড়ছে বাঙ্গির আবাদ।

প্রতিবিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয় এবং বিঘাপ্রতি উৎপাদিত বাঙ্গি বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা। এ আবাদে পোকা-মাকড়ের ঝামেলা কম, তাই বাঙ্গি চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। একইভাবে বাজারে বাঙ্গির ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাজার দরও ভালো। সব মিলিয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। বাজারে চাহিদা থাকায় বাঙ্গি কৃষকের ক্ষেতেই বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহীদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের বাঙ্গি বিক্রির জন্যে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গোহালা নদীর ধার দিয়ে দিগন্ত জোড়া বিস্তীর্ণ চরজুড়ে বাঙ্গি আর বাঙ্গি। যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই কেবল সবুজ-হলুদ সংমিশ্রণে বাঙ্গি চাষের সমারোহ দেখা যায়। আর এসব বাঙ্গি কৃষকদের কাছে থেকে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ আশপাশের জেলার পাইকারি ক্রেতাদের বাঙ্গি ক্রয় করতে দেখা গেছে। প্রত্যেক পাইকারি ব্যবসায়ী তাদের সাধ্যমতো বাঙ্গি ক্রয় করে বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এটি অন্যান্য সবজি বা ফসলের চেয়ে চাষের তুলনায় আয় বেশি, তাই অধিকাংশ চাষিরাই বাঙ্গি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার এখনো পর্যন্ত বাঙ্গির ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

পাইকারি দরে বাঙ্গিগুলো ৩০ থেকে ৪০ টাকায় টাকায় প্রতি পিচ বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা এহসানুল হক বলেন, বাঙ্গি একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। তীব্র গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে বাঙ্গির ভূমিকা অপরিসীম। চৈত্রের বাহারি মৌসুমি ফল বাঙ্গির এবার ভালো ফলন হয়েছে। পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় এলাকার কৃষকদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। অল্প পুঁজিতে ভালো মুনাফা হওয়ায় প্রতি বছরই এ উপজেলার মানুষ বাঙ্গি চাষে ঝুঁকছেন। গত বছর ৪ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছিল, বাঙ্গি চাষিদের গতবার মুনাফা ভালো হওয়ায় এবার ৫ হেক্টর জামিতে বাঙ্গি চাষ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর কৃষকদের বাঙ্গি চাষে উৎসাহ ও পরার্মশ দিয়ে সহযোগীতা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং আগামীতে কিভাবে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম জানান, অল্প সময়ে স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভ করা যায়। উপজেলায় এবছর প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে। বাঙ্গি চাষে কৃষকরা ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন। কৃষকেরা বিঘা প্রতি খরচ বাদে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে লাভ করছেন।

আগামীতে বাঙ্গি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নিরলস কাজ করে যা”েছ উপজেলা কৃষি দপ্তর। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবছরও চাষীরা কাংক্ষিত লভ্যাংশ পাবেন বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ