সংগৃহীত
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার বিষয়টি অনেক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এখন স্প্যানিশ সাংবাদিক ও পর্তুগিজ তারকার কাছের বন্ধু এদু আগুইরে জানালেন, বন্ধ দরজার পেছনে কী ঘটেছিল।
আগুইরে জানান, নরওয়ের বিপক্ষে রোনালদোর না খেলতে পারাটাই শুধু সমস্যা ছিল না। প্রায় আধঘণ্টা মাঠে নামার অনুশীলন করেও তাকে নরওয়ে ম্যাচের পুরোটা সময় বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
২-১ গোলে জেতা ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকতে না পারার বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু এত সময় ধরে তাকে অনুশীলন করানোর পরও মাঠে না নামানোর ব্যাপারটি বিচলিত করেছিল তাকে। সেটা ছিল কেবল শুরু।
আগুইরের মতে, রোনালদো পরে পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুস ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট পেদ্রো প্রোয়েনকার সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠক করেছিলেন। সেখানেই সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। তিনি জানান, ওই পরিস্থিতি যেভাবে সামাল দিয়েছেন, তার জন্য জেসুস রোনালদোর কাছে ক্ষমা চান। কোচ তার পরের সংবাদ সম্মেলনে এনিয়ে ভুল স্বীকার করবেন বলেও কথা দেন।
সমস্যা সমাধানের আশা নিয়ে রোনালদো বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন। তারপরই সবকিছু বদলে যেতে থাকে। সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হয়ে জেসুস তো দুঃখ প্রকাশ করেনইনি। বরং তিনি নিজের সিদ্ধান্তের সপক্ষে বক্তব্য দেন এবং পরিষ্কার জানিয়ে দেন, কে খেলবে সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।
জেসুস বলেছিলেন, তিনি ইতোমধ্যে রোনালদোকে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এবং জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো খেলোয়াড় বা প্রেসিডেন্ট তার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারবেন না। দুই পক্ষের মধ্যে বড় কোনো দ্বন্দ্বের কথাও অস্বীকার করেন তিনি।
আগুইরের দাবি, রোনালদো ব্যক্তিগতভাবে যা বলেছিলেন এবং পরে জেসুস প্রকাশ্যে যা বলেন, তা নিয়েই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এল চিরিঙগুইতো-কে এই সাংবাদিক বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো এজন্যই ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। কারণ তার মনে হয়েছে সে প্রতারণার শিকার।’
আগুইরের বক্তব্য অনুযায়ী রোনালদোর এই ক্ষোভের পেছনের কারণ কেবলই ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকা নয়। বরং এটা ছিল একটি বিশ্বাস এবং কথিত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ব্যাপার। জেসুসের সংবাদ সম্মেলনে কয়েক ঘণ্টা পর পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো।
৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড পরে তার বিদায় নিশ্চিত করে জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলন ও প্রোয়েনকার সঙ্গে কথা বলার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কথা দিয়েছেন, সময় হলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ তিনি জানাবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সময়মতো আমি সব পর্তুগিজকে জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার সত্যিটা জানাব। এই দলের প্রতি আমি সব সময়ই নিবেদিত ছিলাম।’
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট













