সংগৃহীত
উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক শহর বগুড়া। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার কারণে তীব্র যানজটে এ শহরের জনজীবন এখন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পড়েছে যে হেঁটে চলাও মাঝেমধ্যে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। যানজটের এমন অস্বস্তি চলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বগুড়া শহরের সাতমাথায়, থানা মোড়, বাদুড়তলা, কাঁঠালতলা, ঝাউতলা, ফতেহ আলী বাজারের সামনে, বড়গোলা, দত্তবাড়ী, নবাববাড়ী সড়ক, রানা প্লাজার সামনে, জেলা জজ আদালতের সামনে, জলেশ্বরীতলা, ইয়াকুবিয়ার মোড়, পিটিআই মোড়, মোহাম্মদ আলী হাসপাতারের সামনে, কানুছগাড়ী, খান্দার সড়ক, স্টেশন সড়কে যানজট লেগেই থাকে। সড়কের ওপর পার্কিং আর ইউটার্ন যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ দুর্ভোগকেও পুঁজি করছে একটি চক্র। শহরের যত্রতত্র সিএনজিচালিত অটোরিকশার ¯ট্যান্ড বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ে আবার কখনো স্থানীয় প্রভাব ঘাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে এসব সিএনজি ¯ট্যান্ড। আইন অমান্য করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। অবৈধ এসব যানবাহনের কারণে ট্রাফিক পুলিশের যানজট নিয়ন্ত্রণে যেসব নিয়মকানুন দেওয়া হয়েছে সেগুলো কাজে আসছে না। ট্রাফিক আইন অমান্য করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যানবাহন ও চালকরা।
বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকার বাসিন্দা নুরে আলম। তিনি বলেন, শহরের যানজটের ভোগান্তি নিরসন হওয়া দরকার। মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে দিয়ে আসি। বড়গোলা থেকে ইয়াকুবিয়া মোড়। এই সামান্য রাস্তায় যানজট ছাড়া যেতে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগতে পারে। অথচ যানজটের কারণে মাঝেমধ্যে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা লেগে যায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা এর বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেন, আমাদের বগুড়া শহরকে গুছিয়ে তুলতে হলে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। পরিকল্পনা ছাড়া শহরের যানজট কমানো সম্ভব নয়। শহরকে আরও বড় করে তুলতে হবে।
বগুড়া ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান জানান, মানুষ যেন শহরে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে সেজন্য বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহরে যানজট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। যানজটের মূল কারণ হচ্ছে অধিক পরিমাণ অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা বেড়ে যাওয়া।









