শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নকল করতে গিয়ে ধরা খেয়ে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা

নকল করতে গিয়ে ধরা খেয়ে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা

সংগৃহীত

যশোরের মনিরামপুরে চিরকুট লিখে দ্বাদশ শ্রেণির সাবিহা খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরীক্ষার হলে নকলের অভিযোগ আনা হলে ক্ষমা না পাওয়ায় সে আত্মহত্যা করেছে।

শনিবার দুপুরে বাগডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে, সকালে ঐ কলেজে ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থী সাবিহা খাতুন।

জানা গেছে, উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে শিক্ষার্থী সাবিহা খাতুন। সে গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

চিরকুটে লেখা ছিল- ‘আমার কিছু মনে থাকে না বলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে অল্প একটু কাগজে তথ্য লিখে নিয়ে যাই পড়তে পড়তে। পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় তা ফেলে দিতে মনে ছিল না। তারপর পরীক্ষার মধ্যে কলেজের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক তা দেখে ফেলে। আমি তার কাছে ভুল স্বীকার করলাম। অনেকবার বললাম খাতাটা দেন। তিনি আমার খাতা নিয়ে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখল, তবুও খাতাটা দিল না। তাসলিমা ম্যাডাম এবং ইসমাইল স্যার আমাকে তাড়িয়ে দিল। এত করে বললাম ওটা আমার ফেলে দিতে মনে নেই তাও তারা আমাকে পরীক্ষার সুযোগ দিল না। তাই আমি অবশেষে লজ্জায় মুখ দেখাতে না পেরে দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাক সবাই। আমার ভুলত্রুটি থাকলে সবাই মাফ করে দিও। আমার কাছে ফারহানা ২৫ টাকা পাবে এবং সুবর্ণা ৫ টাকা পাবে, এটা তোমরা দিয়ে দিও।’

এ ব্যাপারে গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিহা খাতুনের আত্মহত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থী সাবিহার কাছে নকল পাওয়া যায়। যে কারণে কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদ্বয় তার কাছ থেকে খাতা নিয়ে নেন। এ ব্যাপারে শিক্ষক ও কমিটিকে নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে।

মনিরামপুর থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ