Warning: file_get_contents(http://ipwho.is/216.73.216.149): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 429 Too Many Requests in /home/u483705982/domains/alokitosirajgonj.com/public_html/details.php on line 129

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানে হামলার আধা ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তা পান কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরানে হামলার আধা ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তা পান কাতারের প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউস থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কতা পেয়েও যুদ্ধ ঠেকাতে কিছু করার সুযোগ প্রায় ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘এটি ঠেকাতে কিছু করা সম্ভব কি না।’ তবে ততক্ষণে হামলা কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছিল।

পিয়ার্স মরগান জানতে চান, আরও আগে সতর্ক করা হলে কাতার আরও কিছু করতে পারত কি না। জবাবে আল-থানি বলেন, আগে জানানো হলে যুদ্ধ ঠেকাতে তারা সম্ভাব্য সবকিছুই করতেন। কারণ কাতার সবসময় কূটনীতিকেই সামনে এগোনোর একমাত্র পথ এবং যে কোনো সংঘাতের সমাধান হিসেবে দেখে।

তবে এবারের পরিস্থিতি তাদের জন্য ‘বিস্ময়কর’ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। হামলা শুরুর ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারও ইরানের হামলার শিকার হয় বলে জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

আল-থানি বলেন, তিনি দোহায় নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানেই হোয়াইট হাউস থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন, প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। হামলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কাতারেও হামলা হয়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী এ স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঠেকাতে কাতারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দোহায় ইরানের হামলার নিন্দা জানান তিনি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধকে ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন আল-থানি। তার মতে, এই সংঘাত যুদ্ধের ধরন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নতুনভাবে বদলে দিচ্ছে।

তবে সরাসরি সংঘাতের পরও কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরান সবসময় কাতারের প্রতিবেশী হিসেবে থাকবে। দুই দেশের মধ্যে সিরিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। সিরিয়া ইস্যুতে ইরান বাশার আল-আসাদকে সমর্থন করলেও কাতার তার বিরোধিতা করেছিল।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সরাসরি যোগাযোগ নেই বলেও জানান আল-থানি। মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন বলে মন্তব্য করেন।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে যোগাযোগ কার্যকরভাবে অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠান তেহরানের বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিনিধিত্ব করে।

যুদ্ধের কারণে কাতারের অর্থনীতিতে নজিরবিহীন চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান আল-থানি। তার দেওয়া হিসাবে, দেশটির অর্থনীতি ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, পর্যটন কমেছে ৮০ শতাংশ এবং হোটেলগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে আছে। এতে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে কাতার।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানিও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে কিছু ক্রেতা হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনের দায়িত্ব নিতে রাজি হওয়ায় সীমিত পরিসরে রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক অথবা আইনি সমাধানের আহ্বান জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালেও কাতার প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছিল। তখন সরকারি কর্মীদের বেতন দিতে দেশটিকে সম্পদ বিক্রি করতে ও ঋণ নিতে হয়েছিল।

তবে গত কয়েক দশকে গড়ে তোলা সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার কারণে বর্তমান সংকটও কাতার সামলে উঠতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আল-থানি। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে সাময়িক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র : পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড ও ওয়াইনেট

সূত্র: কালবেলা

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

০২ অক্টোবর ২০২৬ || ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: