মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০

গভীর রাতে ১২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মানবিকতা দেখালেন ডেলিভারি বয়

গভীর রাতে ১২ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মানবিকতা দেখালেন ডেলিভারি বয়

সংগৃহীত

অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থার ডেলিভারি বয়দের নিয়ে হাজারও অভিযোগ থাকে। একটু আসতে দেরি হলেও রেগেমেগে তাদের নামে কমপ্লেন করেন বহু গ্রাহক। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলেও সেই ঝাল মেটান খাবার সরবরাহকারীর উপর দিয়েই। অনেক সময় আবার গ্রাহকের ভুলের দায় নিতে চান না ডেলিভারি বয়। লোকেশন ভুল বা অন্য কোনও ভুল হলে তারাও ফিরে যান। তবে সম্প্রতি ভারতের হায়দরাবাদে ঘটেছে ভিন্ন এক ঘটনা।

সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গভীর রাতে দোকান পাট বন্ধ হয়ে গেছে। সেই রাতেই ১২ কিলোমিটার রাস্তা অতিরিক্ত বাইক চালিয়েই গ্রাহকের দোরগোরায় খাবার পৌঁছে দিয়েছেন এক সুইগি ডেলিভারি বয়। না, মুখে তার কোনও বিরক্তির ছাপ নেই। বরং তার কথায়, ‘কাউকে ক্ষুধার্থ রাখা মানবিকতা নয়।’

গ্রাহকের ভুল কিন্তু তিনি হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন। এতে তার বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই। গ্রাহকের নাম তমাল সাহা। থাকেন হায়দরাবাদে। কিছুদিন হলো সেখানে থাকা শুরু করেছেন। এখনও সবকিছু চেনা হয়ে ওঠা হয়নি। সুইগির মাধ্যমে খাবার অর্ডার করে ছিলেন। এদিকে ঠিকানার জায়গায় যে ভুল করে ফেলেছেন তা খেয়াল ছিল না। ভুল ভাঙল ডেলিভারি বয়ের ফোনে। জানতে পারলেন তিনি যে ঠিকানা দিয়েছেন তা তার লোকেশন নয়। লোকেশন থেকে অনেকটা দূরের ঠিকানা দিয়ে ফেলেছেন তিনি। এদিকে তখন রাতও হয়ে গেছে অনেকটা। বাড়িতে খাবারের তেমন কিছু নেই। তমাল ভাবলেন আর বোধ হয় রাতে খাবার জুটবে না। ডেলিভারি বয়কে তিনি শুধু বলেছিলেন যে, সকাল থেকে কিছু খাননি।

এর কিছুক্ষণ পরে তমাল শাহর দরজায় হাজির হন ডেলিভারি বয়। রাত তখন তিনটা বাজে। গ্রাহকের ভুলে ফিরে যেতেই পারতেন ওই ডেলিভারি বয়। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। বরং অতিরিক্ত ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি তমালের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন।

রাত ৩টার সময় অতিরিক্ত ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে খাবার পৌঁছে দেবেন, এটি প্রত্যাশা করেননি তমাল। নিঝুম রাতে দোরগোরায় হাসিমুখে ডেলিভারি বয়কে দেখে অবাক হন তিনি। এ সময় ডেলিভারি বয় একটাই কথা বলে উঠলেন, ‘আপনি সারাদিন কিছু খাননি। কাউকে ক্ষুধার্থ রাখা মানবিকতার পরিচয় নয়। তাই এত রাত হলেও এলাম।’

ডেলিভারি বয়ের এমন আচরণ সত্যি মুগ্ধ করেছে তমালকে। সেকথা তিনি শেয়ার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। লিখেছেন, ওই ডেলিভারি বয়ের নাম মুহাম্মদ আজম। হৃদয় জিতে নিয়েছেন তিনি। এই স্মৃতির কথা আজীবন তার মনে থেকে যাবে। সবশেষে ‘শুভরাত্রি’ বলার সময় তমাল মুহাম্মদ আজমকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কখন খাবেন? উত্তরে মুহাম্মদ জানান, বাড়ি ফিরে তারপর খাবেন। একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার কথাও বলেন তমাল। তবে হাসিমুখে সে অফার ফিরিয়ে দিয়ে মুহাম্মদ আজম বলেন, ‘না না আমি বাড়ি গিয়েই খাব। আপনি শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন।’

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বশেষ:

শিরোনাম:

সিরাজগঞ্জে ৬৮ মে.ও. সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজ শেষের পথে
রহমতগঞ্জে সংবর্ধনা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হেনরী এমপি
তাড়াশে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার চারা রোপণের শুভ উদ্বোধনে আজিজ এমপি
রায়গঞ্জে এনডিপি’র ‘মিনি ম্যারাথন’ অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জে মৌসুমি আগাম সাড়াদান প্রকল্প এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
সিরাজগঞ্জ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে হেনরী এমপি
সিরাজগঞ্জে সেবা মুক্ত স্কাউট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন পালিত
শবে বরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান
স্থানীয় সরকার বিভাগে বাজেট বরাদ্দ ৬ গুণ বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস আজ
দুপুরের মধ্যেই আসছে ঝড়, আবহাওয়ার নতুন বার্তা
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী