Warning: file_get_contents(http://ipwho.is/216.73.216.74): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 429 Too Many Requests in /home/u483705982/domains/alokitosirajgonj.com/public_html/details.php on line 129

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার ৬ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ঢাকায় বিশেষ প্রদর্শনী

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার ৬ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ঢাকায় বিশেষ প্রদর্শনী

সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার চলচ্চিত্রকে একই পর্দায় তুলে ধরার লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ: একই পর্দায় দুই দেশ’ শীর্ষক বিশেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ) ২০২৭-এর আয়োজনে এবং রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ধানমন্ডির রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মোট ছয়টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।

দুই দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল কাজ তুলে ধরা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। ‘টু নেশনস, ওয়ান স্ক্রিন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের তিনটি করে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা চলচ্চিত্র, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের মধ্যে সৃজনশীল যোগাযোগের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি দর্শকেরা দুই দেশের নির্মাতাদের চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা এ. ক্লেভনয়। তিনি বলেন, বই, গান ও চলচ্চিত্রের মতো বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি ডিআইএমএফএফকে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী পারস্পরিক সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এরপর বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুমন রহমান। তিনি বলেন, বইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সাংস্কৃতিক বিনিময়ের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে চলচ্চিত্রের মতো মাধ্যমেও অব্যাহত রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দুই দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও জানতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়তা করবে।

পরবর্তীতে বক্তব্য দেন ডিআইএমএফএফের প্রশিক্ষক মীর ওয়াদুদ ইসলাম। তিনি ডিআইএমএফএফের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণ ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা নিজেদের সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার সুযোগ পান বলে উল্লেখ করেন। এ ধরনের আয়োজন চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

প্রদর্শনীর প্রথম পর্বে রাশিয়ার তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হয়। চলচ্চিত্রগুলো হলো– ওলেগ কন্দ্রাতিয়েভের ‘দ্য শেল’, মারিয়া সের্গেইয়েভনা ক্লেনোভস্কায়ার ‘রাস্পবেরি’ এবং ইলনুর মুখাম্বেতালিয়েভের ‘ওয়ান মিনিট’।

এরপর প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র– সোহান শেখের ‘হুরুম তুরুম’, জান্নাতুল ফেরদৌস আখির ‘গুডবাই’ এবং শৌমিক বক্সী দীপ্তের ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’।

ছয়টি চলচ্চিত্রের এই সম্মিলিত প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দর্শকেরা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার নির্মাতাদের কাজ এবং তাদের গল্প বলার ভিন্ন ভিন্ন ধরন সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। ভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের সামনে দুই দেশের সৃজনশীল প্রকাশের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শেষে বক্তব্য দেন ডিআইএমএফএফের উৎসব পরিচালক সোহান শেখ। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণদের অংশগ্রহণ ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ডিআইএমএফএফের ভূমিকা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্ব উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সমন্বয়ক ও ডিআইএমএফএফের উপদেষ্টা সৈয়দা সাদিয়া মেহজাবিন। তিনি এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত অতিথি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও চলচ্চিত্রভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের নিয়ে দলীয় ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের এই যৌথ প্রদর্শনী দুই দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও বিনিময়ের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। ভিন্ন ভাষা, সমাজ ও সংস্কৃতির গল্প একই পর্দায় উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ) একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করে এবং বিশ্বের তরুণ ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

১৭ অক্টোবর ২০২৬ || ২ কার্তিক ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন

সর্বশেষ:

শিরোনাম: