সংগৃহীত
কদিন পরই শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কাদামাটি, খড়, বাঁশ, সুতলি ও রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে এই উৎসব। এবার দিনাজপুরের ১ হাজার ৩০৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন মন্দির ও প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, কোথাও দেওয়া হচ্ছে মাটির প্রলেপ। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে রঙ ও সাজসজ্জার শেষ ধাপের কাজ। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন কারিগররা।
প্রতিমা তৈরির প্রথম ধাপে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক দফায় মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার আকৃতি দেওয়া হয়। মাটি শুকানোর পর চলে ফিনিশিং ও রঙের কাজ। দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, পেঁচা, হাঁস ও সর্পসহ বিভিন্ন প্রতিমা।
প্রতিমা কারিগর জগন্নাথ জানান, এবার তিনি ১২টি মণ্ডপের কাজ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১০টির কাজ শেষ হয়েছে, বাকি দুটির কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলেও অনেক পূজা কমিটি বাজেট বাড়াচ্ছে না। এতে প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে কাজ করে তেমন লাভ থাকছে না। একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে প্রায় দুই মাস বা তারও বেশি সময় লাগে। মণ্ডপের আকার, নকশা ও আয়োজকদের চাহিদার ওপর সময় কম-বেশি হয়।’
আরেক প্রতিমা কারিগর সবুজ চন্দ্র সেন বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় মজুরি বাড়েনি। ফলে এবার পরিশ্রম অনুযায়ী লাভ হবে না।’
প্রতিমা কারিগর নরেশ পাল বলেন, ‘দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি আমাদের কাছে শুধু পেশা নয়, শিল্প ও ঐতিহ্যের অংশ। মাটি দিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিমার রূপ দেওয়া পরিশ্রমের কাজ। তবে প্রতিমা তৈরির পর মানুষের আনন্দ দেখে আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।’
দিনাজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এবার ১ হাজার ৩০৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দিনাজপুর সদরে ১৭০টি, বীরগঞ্জে ১৬৬, কাহারোলে ১০০, বিরলে ৯৮, বোচাগঞ্জে ৮৩, চিরিরবন্দরে ১৫৮, খানসামায় ১৪৪, ফুলবাড়ীতে ৬২, পার্বতীপুরে ১৫১, বিরামপুরে ৪৩, নবাবগঞ্জে ৭৩, হাকিমপুরে ২২ এবং ঘোড়াঘাটে ৩৬টি মণ্ডপ রয়েছে।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বরূপ বকসী বাচ্চু বলেন, ‘দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একাধিকবার বৈঠক করেছে। জেলার সব পূজা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক টিমও গঠন করা হয়েছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পূজা উদযাপন কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়। এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও রয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সূত্র: কালবেলা









