সংগৃহীত
কাগজপত্রে পানমশলা-জর্দা ও প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে কায়িক পরীক্ষায় মিলেছে তামাক বা তামাক সদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের পাউডার এবং বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ পেপার।
দুই চালানে মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে পাওয়া গেছে প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন পণ্য। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাক সদৃশ সামগ্রী এবং ৯ দশমিক ২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার। কিন্তু চালানের কাগজপত্রে আমদানিকারক হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির মালিক দাবি করেছেন এ আমদানির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা থেকে এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেসে করে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। গত ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতা থেকে ছেড়ে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বি/এল ৩০১১৭৪৩৪৭-এর অধীনে দুটি হাউস বি/এল-এ পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়।
প্রথম হাউস বি/এল নম্বর আইএসএলসিসিইউ ২৬২৭ সিজিপি ০৯৫। এতে ৪৭৩ প্যাকেজে ‘পান মশলা অ্যান্ড জর্দা (চুইং টোব্যাকো প্রোডাক্ট)’ ঘোষণা করা হয়। কাগজপত্রে পণ্যের মোট ওজন দেখানো হয় ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি। রোববার কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে পাওয়া যায় ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাক সদৃশ সামগ্রী। এর মধ্যে ডার্ক ব্রাউন রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, ব্রাউন ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, গ্রে ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের পাঁচ প্যাকেজে ১২৫ কেজি পণ্য রয়েছে। কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত সামগ্রী বাইরে থেকে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। তবে এসব পণ্যে মাদকদ্রব্য বা কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নমুনা রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দ্বিতীয় হাউস বি/এল নম্বর আইএসএলসিসিইউ ২৬২৭ সিজিপি ০৯৬। এতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হয়। নথিতে মোট ওজন দেখানো হয় ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি। তবে কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার। অর্থাৎ ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন ও শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।
চালানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমদানিকারকের পরিচয়। কাগজপত্রে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-কে আমদানিকারক বা কনসাইনি হিসেবে দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে সিআইআইডিকে জানিয়েছেন, এ আমদানির বিষয়ে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অনবহিত। তাঁর দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি এনেছে। প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে দুটি হাউস বি/এল-এর ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া গেছে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন পণ্য। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাকসদৃশ ও মাদকসদৃশ পাউডারজাত সামগ্রী এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার। পণ্যের প্রকৃত পরিচয়, ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্য এবং আমদানিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
সূত্র: কালবেলা









