বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গুলশানে পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ক্লাবকে দেওয়ায় প্রতিবাদ নাগরিক সমাজের

গুলশানে পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ক্লাবকে দেওয়ায় প্রতিবাদ নাগরিক সমাজের

সংগৃহীত

রাজউক কর্তৃক শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নাম পরিবর্তন ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে অনৈতিকভাবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান। সেখানে বলা হয়, এই প্রতিবাদ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন নাগরিক সমাজের ২৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নাম পরিবর্তন এবং সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান করার রাজউক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৩ জন নাগরিক বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রপত্রিকা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, রাজউক কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও নাগরিক অধিকারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতি সংরক্ষণে ২০২০ সালে গুলশান পার্কটির যে নামকরণ করা হয়েছিল শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক, তা পরিবর্তন করে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নামে নতুন নামকরণ করেছে। আর এটা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কোনো বৈধ এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে। সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রীর নাম এভাবে পরিবর্তন করে তাকে অসম্মান করার কোনো অধিকার কি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো সরকারি এজেন্সির আছে না থাকা উচিত? আমরা তাদের এই উদ্যোগকে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করি এবং এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।

প্রসঙ্গত, এর আগে রাজউক বিগত এপ্রিল ২০১৩ সালে মাঠ হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব এই মাঠের বিষয়ে একটি রিট আবেদন করে (রিট পিটিশন নম্বর: ২৮৯১/ ২০১৩)। উচ্চতর আদালত রিট পিটিশন খারিজ করে মাঠের অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদের নির্দেশনা প্রদান করেন। বর্তমানে সেই একই দখলদার গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ন্যাক্কারজনক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পার্কটির নাম পরিবর্তন করে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নামকরণ করে পুনরায় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদেরই দেওয়া হয়েছে।

গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মূলত একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও ২০১৩ সালে তারা ওই পার্কে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। রাজউকই তখন সেই সকল অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় এবং তা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। অনেক আগে থেকেই গুলশান পার্কের ৫ দশমিক ৫৪ একর জমি তারা দখল করে রেখেছিল বলে অভিযোগ আছে। এই পার্ক ও মাঠটি ব্যবস্থাপনার নামে তারা ভাড়া দিয়ে অর্থ রোজগারের পথ উন্মুক্ত করবে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাতে শুধু ধনী লোকের সন্তানরা টাকা দিয়ে খেলতে পারে। যা মাঠ পার্ক ও জলাধার আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাবার পাশাপাশি পার্কটির পূর্বতন নাম ফিরিয়ে এনে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতি স্বাক্ষর করেন- অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন। খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি। ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি। আবু সাঈদ খান, জৈষ্ঠ সাংবাদিক। অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অনরারি নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট ও সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি। ড. শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী।অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। তাসনিম সিরাজ মাহবুব, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এতে আরও স্বাক্ষর করেন- ড. শাহনাজ হুদা, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রেহেনুমা আহমেদ, লেখক।অ্যাডভোকেট সালমা আলী, নির্বাহী পরিচালক, বি এন ডব্লিউ এল এ। মো: নুর খান, মানবাধিকার কর্মী। জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ। পাভেল পার্থ, লেখক ও গবেষক। মনিন্দ্র কুমার নাথ, ভারপ্রাপ্ত সাধারাণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট। অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, প্রধান নির্বাহী, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন। সাঈদ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী এবং হানা শামস আহমেদ, পিএইচডি গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

২০ মে ২০২৬ || ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন