সংগৃহীত
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি না করায় নিহত ও আহতদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
গত ২৫ মার্চ বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (রাজবাড়ী-ব-১১-০০২৪) দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী নিহত হন।
এ ঘটনায় ৪ এপ্রিল গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কাচেরখোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট মো. নুরুজ্জামান। দুর্ঘটনায় তিনি তার স্ত্রী আয়শা আক্তার সোমা (৩০) ও সাত মাস বয়সী ছেলে নাজিফ বিন জামান আরশানকে হারান।
মামলায় বাসের অজ্ঞাতনামা চালক, হেলপার, সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩০৪/১০৯/২৭৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে নুরুজ্জামান উল্লেখ করেন, ঈদের ছুটি শেষে ২৫ মার্চ স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরির অপেক্ষায় বাসটি একটি ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এ সময় তিনি ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে বাস থেকে নেমে পন্টুনে দাঁড়িয়েছিলেন। বাসের ভেতরে ছিলেন তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফেরি ঘাটে ভিড়তে শুরু করলে হঠাৎ বিকট শব্দে বাসটি পন্টুনের শেষ প্রান্তে ধাক্কা মেরে নদীতে পড়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল বাসটি নদী থেকে তুলে আনলে তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানসহ ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, তদন্ত কাজ এখনও চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর মামলা হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কাউকে গ্রেপ্তার না করায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে।
এদিকে সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা ও চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট












