মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

নাটোরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে প্রাণ গেল বাবার, ছেলেসহ আহত ২

নাটোরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে প্রাণ গেল বাবার, ছেলেসহ আহত ২

সংগৃহীত

নাটোরে মোটরসাইকেলের সাইড লাইট ভাঙাকে কেন্দ্র করে আবুল কালাম (৪৫) নামের এক রংমিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে কাউসার আলী (২৫) ও পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নাটোর পৌরসভার কান্দিভিটা এলাকার কদমতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম আজাদ ওই এলাকার শাহাজ উদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে আবুল কালামের বাড়ির পাশেই বাড়ি নির্মাণ করেন প্রতিবেশী আল হাফিজ। বাড়ি নির্মাণের সময় পৌরসভার নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রাস্তা না রাখাকে কেন্দ্র করে তখন থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই মধ্যে দুই দিন আগে নিজেদের গলিতে মোটরসাইকেল রেখে জরুরি কাজে বাড়িতে যান আবুল কালামের ছেলে কাউসার আলী। ওই সময় একই গলি দিয়ে আল হাফিজের বাড়িতে আসবাবপত্র নেওয়ার সময় কাউসারের মোটরসাইকেলের সাইড লাইট ভেঙে যায়। এ ঘটনায় কাউসারের মামা শাহীন বিষয়টি নিয়ে আল হাফিজের পরিবারের কাছে অভিযোগ করলে তারা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কাউসারের মামা শাহীন বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে চা পান করার সময় আল হাফিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আল হাফিজের পক্ষের লোকজন বাড়ির ভেতর থেকে আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে নিয়ে শাহিনের ওপর হামলা চালান।

এ সময় বিষয়টি জানতে পেরে পাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন আবুল কালাম। তখন হামলাকারীরা তাকেও মারধর করেন এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বুকে আঘাত করেন। এ সময় ছেলে কাউসার আলী ও পরিবারের আরেক সদস্য এগিয়ে এলে তাদেরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আবুল কালামের মৃত্যু হয়। আহত কাউসার আলী ও পরিবারের অপর সদস্য বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আল হাফিজসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশিকুর রহমান/আরকে

 

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট